বিগত ২০ বছর ধরে পরিচয় বঞ্চিত মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী। কমিঠির পর কমিঠি হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিঠি হয়নি এতদিন। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে মৌলভীবাজার ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। এতদিন পর আগামীকাল ২৩ এপ্রিল জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগ। চলছে নিজ নিজ বলয়ে পদ প্রত্যাশীদের তদবির।
১৯৯৮ সালে থেকে কেন্দ্র ঘোষিত মোট তিন কমিটি গেলেও পূর্ণাঙ্গের মুখ দেখেনি জেলা ছাত্রলীগ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিচয়বিহীন হাজারো রাজপথের কর্মীবাহিনী হারিয়ে গেছে কালের পরিক্রমায়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৯ জুলাই কেন্দ্র থেকে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম ছয় সদস্য বিশিষ্ট কমিটির নাম প্রকাশ করেন।
জেলা সভাপতির দায়িত্ব পান আসাদুজ্জামান রনি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সাইফুর রহমান রনি। এই দুই রনিও তাদের মেয়াদে পূর্ণাঙ্গ কমিঠি গঠন করতে পারেনি। এই তিনটি কমিটিই দেয়া হয়েছে সম্মেলন বিহীন। কেন্দ্র থেকে সরাসরি প্রেস রিলিজ দিয়ে কমিঠি গঠন করা হয়।
নিজেদের পরিচয় পাওয়ার আশায় এবং ২০ বছর পর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করায় জেলার নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। কমিটিতে পদ পেতে জেলা ছাত্রলীগ নেতাদের কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ ছিল আগে থেকেই। কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে জেলা ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রক জেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের চার বলয়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন তারা।
সম্মেলন ঘিরে ৪ বলয়ে বিভিক্ত জেলা ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশীরা নিজ নিজ বলয়ের মাধ্যমে তদবির করে যাচ্ছেন, চেষ্টা করে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির। পদ প্রত্যাশী প্রার্থীদের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের মুখে যাদের নাম আলোচনায় আছে তারা হলেন, মো. রাসেল আহমদ, জাকির হোসেন সুজল, আমিরুল হোসাইন চৌধুরী, ফয়সল মনসুর, সাইদুর রহমান মনি, মাহের হোসেন জাকের, তানভীর আহমদ তনয়, ইফতেখার হোসেন চৌধুরী ইমন ও তানভীর সিপু প্রমুখ।
আসন্ন সম্মেলনে কেমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করেন এমন প্রশ্ন করা হলে জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, যারা নেতৃত্বের যোগ্যতায় এগিয়ে আছেন, দুঃসময়ে মাঠে থেকে লড়াই করেছেন, নিয়মিত ছাত্র, আন্দোলনে সামনের কাতারে ছিলেন এবং নিজের থেকে দলকে বড় মনে করেন তেমন নেতাকেই সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটিতে দেখতে চান।
জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি আসাদুজ্জামান রনি জাগো নিউজকে বলেন, সম্মেলন ঘিরে জেলা ছাত্রলীগ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ২৩ তারিখের এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আর্দশ লালনকারী ত্যাগী ও নিবেদিত প্রাণ নেতৃত্ব আসবে সেটাই প্রত্যাশা।
রিপন দে/এফএ/জেআইএম