নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মোস্তাফিজ নিলয়ের (১৫) বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। শহরের মুক্তিরমোড় জিলা স্কুলের পেছনে নিলয়ের নানাবাড়িতে আত্মীয়-স্বজনে ভরপুর। নিলয়ের কথা মনে করে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন মা। আত্মীয়-স্বজন সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোনো কথাই মায়ের মনে স্থান পাচ্ছে না।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শহরের বাইপাস সড়কে বেডো অফিসের পাশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিলয় ডান পা হারায়। এ সময় তার দুই বন্ধু রাকিব হোসেন ও সাদমান আহত হয়। এরা সবাই নওগাঁ কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। নিহত নিলয় নওগাঁ শহরের মাস্টারপাড়ার আফতাব মোল্লার দ্বিতীয় ছেলে।
সম্প্রতি রাজধানীতে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর শিকার হয়ে হাত হারানোর কয়েক দিন পর মারা যান কলেজছাত্র রাজিব। এরপর বাসচাপায় পা হারিয়ে চিরবিদায় নেন গৃহকর্মী রোজিনা। এমন শোক কাটিয়ে না উঠতেই সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা হারিয়ে মারা গেলো স্কুলছাত্র মোস্তাফিজ নিলয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুত্রবার সন্ধ্যায় নিলয়সহ তিন বন্ধু মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়। নিলয় মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিল এবং অপর দুই বন্ধু পেছনে বসা ছিল।
শহরের বাইপাস ব্রিজ এলাকা থেকে শান্তাহারের দিকে যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভটভটি বেডো অফিসের পাশে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল নিয়ে তারা রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে। এতে নিলয়ের ডান পা হাঁটু থেকে আলাদা হয়ে যায়। এ সময় তার দুই বন্ধু আহত হয়।
তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে নিলয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিয়ল মারা যায়। পরে রাতেই রাকিব হোসেন ও সাদমানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
শনিবার সকাল ১০টায় নওগাঁ কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও বেলা ১১টায় নওযোয়ান মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নিলয়ের দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহত নিলয়ের বন্ধু নাদিম বলেন, সব বন্ধু মিলে শহরের বাইপাশে প্রায়ই ঘুরতে যেতাম। শুক্রবার শান্তাহারের দিকে যাওয়ার পথে তারা পেছনে পড়ে। আসতে দেরি হওয়ায় আবার পেছনের দিকে ফিরে আসি। দেখি এমন দুর্ঘটনা।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রকিবুল আক্তার বলেন, যানবাহনের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে নিয়মিত আমরা পদক্ষেপ নিই। নিয়মিত চেকপোস্ট বসানো হয়। যেখানে হেলমেট ছাড়া, রেজিস্ট্রিবিহীন মোটরসাইকেল ও তিনজন আরোহীর বেশি থাকলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এছাড়া কিশোররা যদি বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালায় তাদের আটক করে শাস্তি দেয়া হয়।
আব্বাস আলী/এএম/জেআইএম