দেশজুড়ে

পাবনার অধিকাংশ সড়কের বেহাল অবস্থা

পাবনার অধিকাংশ সড়ক ও মহাসড়কের এখন বেহাল অবস্থা। জেলার ৯ উপজেলার সঙ্গে মহাসড়কে সংযুক্ত সব সড়কই ভেঙে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব ভাঙা-চোরা সড়কে পানি জমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

এলজিইডির আওতাভুক্ত গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা সড়কের অধিকাংশই রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে পাবনা-সুজানগর, পাবনা-নগরবাড়ি ও পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের বেহাল দশা দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের পাবনা শহর থেকে গাছপাড়া, পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পাবনা শহর থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। উপজেলার সঙ্গে মহাসড়কের সংযুক্ত সব সড়কই ভেঙে গেছে। আবার ইউনিয়ন পর্যায়ের গ্রামীণ সড়ক ও মাটির রাস্তাগুলোরও বেহাল অবস্থা। গ্রামীণ সড়কগুলোর সবই এলজিইডির এবং উপজেলা থেকে মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত সড়কগুলো সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে বলে জানা গেছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন একটি সড়কের নাম সুজানগর-চিনাখড়া সড়ক। সুজানগর উপজেলা শহর থেকে দূরত্ব ১৩ কিলোমিটার। সুজানগর থেকে পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের চিনাখড়ায় এসে মিলেছে সড়কটি যা পুরোটাই ভাঙা-চোরা।বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে সড়কটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ পথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের। সড়কটির অবস্থা এতই নাজুক যে বাস ট্রাক তো দূরের কথা রিকশা-ভ্যানও চলাচল করতে পারছে না। সড়কের মাঝখানে মাটি সড়ে গিয়ে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টি হলে হেঁটে চলাচল করা যায় না।

সুজানগর থেকে আতাইকুলা ও সুজানগর থেকে হেমরাজপুর সড়কের অবস্থাও বেহাল। এসব রাস্তায় যানবাহন চলাচলসহ জনসাধারণের চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য হওয়ায় দ্রুত সংস্কারের দাবিতে সুজানগর-চিনাখড়া রুটে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন মালিক-শ্রমিকরাও দফায় দফায় বিক্ষোভ এবং ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছে।

এদিকে এলজিইডির অধীনে পাবনার গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়কের অধিকাংশই ভাঙা-চোরা। দীর্ঘদিন এসব সড়ক সংস্কার না করায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

সওজ বিভাগের পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ রায় জানান, জেলায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে ৫২২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কমপক্ষে ২০০ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা। একটানা বৃষ্টিতে অনেক সড়ক-মহাসড়ক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তহবিল হাতে থাকা সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে সড়কের মেরামত করা হচ্ছে।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানান, জেলায় গ্রামীণ সড়ক পাকা ৭৭৪ কিলোমিটার এবং কাঁচা ৩ হাজার ৪১৫ কিলোমিটার। যার অধিকাংশই খারাপ। এসব সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্কার করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের। কিন্তু তারা ফান্ডের অভাবে এগুলো মেরামত করতে পারছে না।

এদিকে জেলার ৯ পৌরসভার মধ্যে ৪টি রয়েছে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। কিন্ত সুফল পাচ্ছে না পৌরবাসী। এসব পৌরসভার অধিকাংশ সড়কের বেহাল দশা। পৌরসভাগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের অকেজো সড়ক মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত ফান্ড নেই। স্থানীয় আয় দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতেই তারা হিমশিম খান। তাদের হাতে রাস্তার সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো তহবিল নেই।

১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত পাবনা পৌরসভাটি অনেক বছর আগেই প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পেয়েছে। কিন্ত এখনও পৌরবাসী অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ পৌরসভার নিউমার্কেট সড়ক, পাবনা কলেজ গলি, প্রেসক্লাব, দিলালপুর, কফিল উদ্দিন পাড়া, শান্তিনগর, বেলতলা , বড় বাজার, দই বাজার মোড় শালগাড়িয়া সড়ক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আতাইকুলা সড়কসহ ১৫টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ সড়কের বেহাল অবস্থা।

পাবনা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তাবিবুর রহমান জানান, পাবনা পৌরসভায় পাকা সড়ক ২১২ কিলোমিটার। এর মধ্যে কার্পেটিং ১৬১ কিলোমিটার ইটের রাস্তা সাড়ে ৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৩৫ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এসব সড়কের সাথে ডেনেজ ব্যবস্থাও খারাপ। কিন্ত এ সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের কোনো তহবিল নেই। বিদেশি সহায়তাও বন্ধ।

তিনি জানান, পৌরসভার নিজস্ব যে আয় হয় তা দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেই শেষ হয়ে যায়। এরপরও পাবনা বড় বাজারের দইপট্টি থেকে রুপকথা ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক এবং যুগীপাড়া সড়কের মেরামত কাজ চলছে।

প্রথম শ্রেণির ঈশ্বরদী পৌরসভার প্রধান সড়ক, রেলগেট থেকে চাঁদ আলীর মোড়, চাঁদ আলীর মোড় থেকে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ পর্যন্ত সড়কের বেহাল অবস্থা। এ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আওয়াল জানান, তার পৌরসভার ১০০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৬০ ভাগ ভালো। এখন ১৬ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১৪ কিলোমিটার ড্রেনের কাজ চলছে। কিন্ত বৃষ্টির কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

একে জামান/আরএআর/আরআইপি