কাঁঠাল রসালো ও সুস্বাদু একটি ফল। টাঙ্গাইলে গত বছরের ন্যায় এবারও চলতি মৌসুমে জাতীয় ফল কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। রমজানের শুরু থেকে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কাঁঠাল বিক্রি হতে দেখা গেছে। বর্তমানে প্রায় বাজারেই কাঁঠালের মৌ মৌ ঘ্রানে ভরে আছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১২টি উপজেলায় ৫৭৪ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল চাষ করা হয়েছে। এ বছর কাঁঠালের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার মেট্রিক টন।
জানা যায়, জেলার ১২টি উপজেলায় প্রচুর কাঁঠাল গাছ রয়েছে। নির্ধারিত বাগান ছাড়াও সড়ক-মহাসড়ক, গ্রামীণ জনপদ, হাট-বাজার এবং বাড়ির আঙ্গিণায়ও কাঁঠালগাছ বেড়ে ওঠে, ফল দেয়। এসব এলাকায় ব্যক্তিমালিকানায় কাঁঠালগাছ রোপণ করা হয়। টাঙ্গাইল জেলার উত্তর ও পূর্বে পাহাড়ি অঞ্চলের লালমাটি কাঁঠাল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এসব অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে কাঁঠালের বাগান করা না হলেও বাড়ির আঙ্গিণাসহ রাস্তার পাশ দিয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকেই কাঁঠাল গাছ রোপন করে থাকেন। কোনো ধরনের সার, কীটনাশক এমনকি বিশেষ পরিচর্যা ছাড়াই এ গাছ আপনগতিতে বেড়ে ওঠে। জেলার প্রতিটি উপজেলার গাছগুলোতে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। কাঁঠাল উৎপাদনে খরচ কম থাকায় চাষীরা লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন। টাঙ্গাইলের উৎপাদিত কাঁঠাল জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে।
কাঁঠাল চাষীদের দেয়া তথ্য মতে, কাঁঠালের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এর কোনো অংশই ফেলে দিতে হয় না। কাঁঠালের রস থেকে প্রচুর ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। কাঁঠালের বিচি এবং কাঁচা কাঁঠাল দিয়ে তরকারি রান্না করে খাওয়া যায়। কাঁঠালের খোলস ও পাতা গবাদিপশুর অত্যন্ত প্রিয় খাবার। তাই কাঁঠাল গাছ লাগিয়ে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জেলায় এ বছর কাঁঠালের ফলন খুবই ভাল হয়েছে। জেলার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের পাশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাছ লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ির আঙ্গিনায় কাঁঠাল গাছ লাগানো হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধিতে চাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সারা বছর যাতে কাঁঠাল উৎপাদন করা যায় এ জন্যও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আরিফ উর রহমান টগর/আরএ/জেআইএম