দেশজুড়ে

ফ্লিমের অভাবে অচল ডিজিটাল এক্স-রে

ফ্লিম না থাকায় দীর্ঘদিন থেকে পড়ে আছে নওগাঁ সদর হাসপাতালের মূল্যবান ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্র। এতে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জনসাধারণ। ফ্লিমের অভাবে হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে না হওয়ায় রোগীদের বাহিরে যেতে হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছুটা অনীহা থাকায় ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্রটি কোনো কাজে আসছে না।

সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর অ্যান্ড ডিপো (সিএমএসডি) থেকে দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানি থেকে গত ২১/১২/২০১৬ ইং তারিখে ৫০০ এমএ-সিআর-চাইনা মডেলের এক্স-রে যন্ত্রটি সরবরাহ করা হয়। এর সঙ্গে তিন সাইজের ৩০০টি ফ্লিমও দেয়া হয়। এরপর ২০১৭ সালের অক্টোবরে এক্স-রেটি চালু করা হয়। এক্স-রে চালুর কিছু দিনের মধ্যে ফ্লিমগুলো শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে মূল্যবান এ যন্ত্রটি পড়ে আছে।

হাসপাতালে সাদাকালো এক্স-রে বড় ফ্লিমের মূল্য ৭০ টাকা এবং ছোট ৫৫ টাকা। ডিজিটাল এক্স-রে বড় ফ্লিমের মূল্য ২৫০ টাকা এবং ছোট ১৫০ টাকা। প্রতিদিন হাসপাতালে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় ৯০-১০০ জনকে এক্স-রে সেবা দেয়া হয়। ফ্লিম না থাকায় ডিজিটাল এক্স-রের জন্য প্রায় ৪০-৫০ জন রোগী ফেরত যায়।

জেলার ১১টি উপজেলার প্রায় ৩০ লাখ জনগোষ্ঠীর একমাত্র ভরসা নওগাঁ আধুনিক সদর হাসপাতাল। এটি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। তবে নতুন আরও ১৫০ শয্যা বিশিষ্ট ভবনের কাজ চলছে। এ বছরের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এ হাসপাতালে পার্শ্ববর্তী বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা ও জয়পুরহাট জেলা থেকেও মানুষ সেবা নিতে আসে।

চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের জন্য হাসপাতালটিতে গত ২১/১২/২০১৬ ইং তারিখে ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্র দেয়া হয়। এর মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে এবং খুব অল্প সময়ে উন্নতমানের রিপোর্ট দেয়া সম্ভব। এছাড়া পরীক্ষা নিরীপক্ষার জন্য খুব ভাল মানের ফলাফল দেয়া সম্ভব। চিকিৎসার সুবিধার জন্য রোগীদের ডাক্তাররা ডিজিটাল এক্স-রের জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে মূল্যমান এ যন্ত্রটির ফ্লিম না পাওয়ায় নওগাঁবাসী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রের সাদাকালো ফ্লিমের মূল্য বড়টা ৭০ টাকা এবং ছোট ৫৫ টাকা হলেও বাহিরের ক্লিনিকে ১৫০ টাকা দিয়ে এক্স-রে করে নিতে হচ্ছে। এছাড়া ডিজিটাল এক্স-রে বড় ফ্লিমের মূল্য ২৫০ টাকা এবং ছোট ১৫০ টাকা হলেও বাহিরের ক্লিনিকে ৩৫০ টাকা ও ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। এতে লাভবান হচ্ছে ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টার।

অপরদিকে সাদাকলো এক্স-রে পানিতে ধোয়া মুছা ও পরিষ্কার করায় অনেকটা অস্পষ্টতা দেখা দেয়। এতে রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রেও ডাক্তারদের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধিতে ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্রটি চালু করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সদর উপজেলার চক-আতিতা গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ নাদিরা বলেন, গত ছয় মাস আগে ডান হাতের কব্জি সরে গেছে। জ্বালা-যন্ত্রণা ও ব্যথা করে। ডাক্তার ডিজিটাল এক্স-রে করতে বলেছেন। কিন্তু বাহিরের ক্লিনিকে বেশি টাকা দিয়ে এক্স-রে করার সামর্থ নাই। তাই বাধ্য হয়ে হাসপাতালে সাদাকালো এক্স-রে করতে হলো। ডিজিটাল এক্স-রে চালু হলে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সুবিধা হয়।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রওশন আরা খানম বলেন, ফ্লিম না থাকায় জনস্বার্থে এক্স-রে যন্ত্রটি কাজে আসছে না। ফ্লিম পাওয়া যাচ্ছে না। ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল ফ্লিম নেয়ার বিষয়ে। এছাড়া ব্যাক্তিগত ভাবেও ফ্লিমের বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান বলেন, এক্স-রে মেশিনটির কোনো সমস্যা যাতে না হয় জন্যই প্রতিমাসে হাসপাতাল পরিদর্শন করে সেটি চালু করা হয়। আমাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ ফ্লিম আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ফ্লিম কেনার বিষয়ে অবগত করা হয়েছিল। সেখান থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আব্বাস আলী/আরএআর/এমএস