দেশজুড়ে

অসহায়ের সহায় উইমেন সাপোর্ট সেন্টার

নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়নের ডগ্রী বাজারের পাশে একটি বাড়িতে কাজ করতেন রুবি বেগম। কাজে আসা যাওয়ার পথে ২০১৫ সালে ডগ্রী বাজারের বেকারি শ্রমিক রাসেল সরদারের সঙ্গে রুবির পরিচয় হয়। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রুবির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে রাসেল। এতে রুবি সন্তান সম্ভবা হয়ে পড়লে রাসেলকে বিয়ের কথা বলেন। কিন্তু রাসেল বিয়েতে রাজি না হয়ে উল্টো তালবাহানা শুরু করে।

শেষমেষ রাসেলের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে শরীয়তপুর পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন রুবি। পুলিশ সুপার অভিযোগটি কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে সমাধানের দায়িত্ব দেন উইমেন সাপোর্ট সেন্টারকে।

পরে উইমেন সাপোর্ট সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই রানু আক্তারসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য একই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর রাসেল ও রুবির বিষয়টি সমাধান করেন এবং ওইদিন রাসেল ও রুবির বিয়ে সম্পন্ন করেন।

রুবি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বিয়ের এক মাস পর ওই বছরই ২৯ অক্টোবর শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রুবি এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। রুবির সন্তান জন্মদানের সময় তাকে রক্ত দেন উইমেন সাপোর্ট সেন্টারের এএসআই আয়সা আক্তার। এমনকি রুবির গর্ভকালীন এবং বিয়ের সমস্ত অর্থ বহন করে উইমেন সাপোর্ট সেন্টার।

শুধু রুবি বেগমই নয় এমন অসহায় অনেক নারীর পাশে দাঁড়িয়েছে শরীয়তপুর উইমেন সাপোর্ট সেন্টার। বদলে দিয়েছে তাদের জীবনের গল্পটাই।

২০১৬ সালের ১১ জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শরীয়তপুর উইমেন সাপোর্ট সেন্টারে ৫০৮টি নারী নির্যাতন, পারিবারিক কলহ, যৌন নিপিড়ন ও যৌতুকের বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। এরমধ্যে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত পরিবারকে নিয়ে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে ৩৭৮টি অভিযোগ সমাধান করেছে উইমেন সাপোর্ট সেন্টার। বাকি ১৩০টি অভিযোগ সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এসব কাজের জন্য গত ২৯ মার্চ বাংলাদেশ পুলিশ হেড কোয়ার্টারে বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে শরীয়তপুর উইমেন সাপোর্ট সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই রানু আক্তারকে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেয়া হয়।

এসআই রানু আক্তার বলেন, ‘আমরা এখন সবাই সচেতন, আর হবে না নারী ও শিশু নির্যাতন’ এই স্লোগানকে নিয়েই আমরা কাজ করি।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা চাই প্রতিটি পরিবার সুখে শান্তিতে বসবাস করুক। তাই এই উইমেন সাপোর্ট সেন্টার নারী ও শিশুদের সমস্যা সমাধানে কাজ করে। যাতে করে সমাজ থেকে নারী নির্যাতন, পারিবারিক কলহ, যৌন নিপিড়ন ও যৌতুকসহ সমস্ত নির্যাতন বন্ধ হয়।

ছগির হোসেন/এফএ/আরআইপি