জাতীয়

‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর কী চাইবো’

৩১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৮ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করে পাবনাবাসীকে উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার পাবনা জেলার সরকারি পুলিশ লাইনস মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভাস্থলে এ ফলক উন্মোচন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার পাওয়ার পর নতুন করে আর কী চাইবেন সেই ভাবনায় পড়েছেন পাবনাবাসী। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, রেল লাইন ছাড়াও রয়েছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

এরই মাঝে প্রধানমন্ত্রী দিলেন নতুন একঝাঁক উন্নয়ন প্রকল্পের উপহার। এলাকাবাসী জানান, ইতোমধ্যে যেসব উন্নয়ন হয়েছে এবং যা হতে যাচ্ছে তা বাংলাদেশের আর কোনো জেলায় নেই। ফলে শেখ হাসিনার কাছে নতুন চাওয়ার বিষয় জানতে চাইলেই ভাবছেন এই জেলার বাসিন্দারা।

পাবনা সরকারি কলেজের ছাত্র সৈকত বলেন, অন্য জেলা শহরে যা আছে তার চেয়ে পাবনায় বেশি আছে। পাবনাবাসীর আর কিছুই চাওয়ার নাই। 

শহরের চায়ের দোকানি কামাল বলেন, আমাদের এখানে সবই আছে। আর কিছু লাগবে না। আমাদের এমপিরা কিছু দরকার মনে করলে চাইতে পারেন।

শহরে অটো চালান সালেক। তিনি বলেন, পাবনায় কিছু লাগবে না। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিছু চাই না। শুধু দুই বেলা পেট ভরে খেতে চাই, শান্তিতে ঘুমাতে চাই।

শহরের শালগাড়ীয়া এলাকার বাসিন্দা রুম্মানুল বলেন, স্কুল, কলেজ, হাসপাতালসহ নানা প্রতিষ্ঠান আছে। অনেক প্রয়োজনই ইতোমধ্যে মিটেছে আমাদের।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যা হয়েছে তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে শহরের প্রেস ক্লাবের পাশে ওষুধ ব্যবসায়ী শামীম বলেন, আমাদের বড় কোনো দাবি নেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে। পাবনায় আসার পথে সড়ক প্রস্তুত করার দাবি শোনা যায় তার কাছ থেকে। পাবনাবাসীর চাওয়া না থাকলেও এই জেলায় খালি হাতে আসেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

পুলিশ লাইনস মাঠে ফলক উন্মোচন করে উদ্বোধন করেন ৩১টি প্রকল্পের। যার মাঝে রয়েছে ঈশ্বরদী থেকে মাঝগ্রাম হয়ে পাবনা পর্যন্ত রেলওয়ে সেকশনে ট্রেন চলাচল; পাবনা মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস; ঈশ্বরদী থানা ভবন; জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স; সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ, আটঘরিয়া উপজেলার মাঝপাড়া, ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী, সলিমপুর, লক্ষ্মীকুণ্ডা, সাঁড়া, পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর এবং চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস; ফরিদপুর উপজেলায় বড়াল নদীর ওপর ‘নারায়ণপুর সেতু’; ভাঙুড়া উপজেলায় গোমানী নদীর ওপর ‘নৌবাড়িয়া সেতু’; ঈশ্বরদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স; চাটমোহর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স; সিটি কলেজ, পাবনার একাডেমিক ভবন; দেবত্তোর ডিগ্রি কলেজ, আটঘরিয়ার একাডেমিক ভবন; খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ, আটঘরিয়ার একাডেমিক ভবন; চাটমোহর মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবন; বোনকোলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সুজানগরের একাডেমিক ভবন; সুজানগর মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবন; শহীদ নুরুল হোসেন ডিগ্রি কলেজ, সাঁথিয়ার একাডেমিক ভবন; ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবন; সরকারি অ্যাডওয়ার্ড কলেজের প্রশাসনিক ভবন; ডেঙ্গারগ্রাম ডিগ্রি কলেজ, আটঘরিয়ার একাডেমিক ভবন; আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স; চাটমোহর উপজেলায় গোমানী নদীর উপর ‘নিমাইচড়া সেতু’; চাটমোহর উপজেলায় ‘কাটাখাল সেতু’; চাটমোহর উপজেলায় আত্রাই নদীর ওপর ‘আত্রাই সেতু’; সুজানগর উপজেলায় ‘ধোলাইখাল সেতু’; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, ভাঙুড়া; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, চাটমোহর; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, ফরিদপুর; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, ঈশ্বরদী; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, আটঘরিয়া; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, সাঁথিয়া; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, সুজানগর, পাবনা।

১৮টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সিগন্যালিংসহ রেললাইন নির্মাণ; জেলা সদরে ১০০০ আসনবিশিষ্ট অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলো; সুজানগর উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র; আটঘরিয়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন; চাটমোহর উপজেলা সাব-রেজিস্টার অফিস ভবন; বেড়া উপজেলা সাব-রেজিস্টার অফিস ভবন; সুজানগর উপজেলা সাব-রেজিস্টার অফিস ভবন; জেলা রেজিস্ট্রার অফিস ভবন; পুলিশ লাইনস মহিলা পুলিশ ব্যারাক ভবন; সুজানগর উপজেলায় সাগরকান্দি ইউনিয়ন ও আটঘরিয়া উপজেলায় হাদল ইউনিয়ন ভূমি অফিস; পাবনা মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল; জেলা শিল্পকলা একাডেমি; সাঁথিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ; আদর্শ মহিলা কলেজ, পাবনার একাডেমিক ভবন; সাঁথিয়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন; বেড়া পৌরসভায় উচ্চ জলাধার ও পানি শোধনাগার নির্মাণ; সাঁথিয়া পৌরসভায় উচ্চ জলাধার নির্মাণ; ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ।

এইউএ/এমআরএম/জেআইএম