দেশজুড়ে

সাতক্ষীরায় বাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে শতাধিক গ্রামের মানুষ

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া নদী ও তালার কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী টিআরএম প্রকল্পের বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হবে শতাধিক গ্রাম। ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছেন এসব এলাকার মানুষ।

আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা, প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা ও আশাশুনি সদরে বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। খোলপেটুয়া নদীর অতিরিক্ত জোয়ারের পানির চাপে সৃষ্টি হয়েছে ভাঙনের।

আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জাগো নিউজকে জানান, খোলপেটুয়া নদীর তীব্র জোয়ারে কুড়িকাওনিয়া, চাকলা, হিজরেখোলা, খালিশখালি এলাকার বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বার বার বলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

এদিকে শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাকিল হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের থানাঘাটা ও হাজরাকাটি এলাকার খোলপেটুয়া নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্বেচ্ছাশ্রমে এলাকাবাসী বাঁশের খুঁটি দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করলেও সেটি টিকে থাকবে না। যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে নষ্ট হবে মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি।

অন্যদিকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী পাখিমারা বিলে টিআরএম প্রকল্পের বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হবে। ভেসে যাবে মৎস্য ঘের।

স্থানীয়রা জানান, যে কোনো সময় পানির চাপে বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করবে। কিন্তু বাঁধ সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেই।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা আবুল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, বাঁধ ভাঙনের বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন অফিসে আগেও লিখিতভাবে আবেদন পাঠানো হয়েছিল। আবারও পাঠানো হবে। বরাদ্দ পেলে বাঁধ সংস্কারের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আকরামুল ইসলাম/আরএআর/এমএস