সাতক্ষীরায় পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা শিশুকে পাচারের দায়ে আফরোজা ওরফে তাছলিমা খাতুন নামে এক নারীর যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোছা. আফরোজা ওরফে তাছলিমা খাতুন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপাজেলার পরানপুর গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে। বর্তমানে তারা কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর গ্রামে বসবাস করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, পরানপুর গ্রামের এক দিনমজুরের পাঁচ বছরের মেয়ে ৮৬নং পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে পড়তো। ২০০৩ সালের ৬ মার্চ সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে স্কুলে যায় সে। স্কুল শেষে সে আর বাড়ি ফেরেনি। সহপাঠী ময়না ও টুম্পার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে যে স্কুল শেষে তাকে খালা পরিচয়ে এক নারী মাঠ থেকে ডেকে নিয়ে যায়। জানতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আব্দুল করিম মসজিদসহ বিভিন্নভাবে মাইকিং করার ব্যবস্থা করেন।
রাত ১০টার দিকে বৈশখালি গ্রামের লোকজন আফরোজাকে আটক করলেও কয়েকজন পালিয়ে যায়। এ সময় উদ্ধার করা হয় ওই শিশুকে। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ওই শিশুর দাদা বাদী হয়ে আফরোজা খাতুন, রতনপুর গ্রামের বাবু, বাবলু ও আবু হান্নানের নাম উল্লেখ করে পরদিন শ্যামনগর থানায় একটি পাচারের মামলা দায়ের করেন। ২০০৩ সালের ৩০ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্যামনগর থানার উপ-পরিদর্শক ফয়সাল জামান এজাহারভুক্ত আসামিদের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
সাতক্ষীরা জর্জ কোর্টের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট জহুরুল হায়দার বাবু জানান, আদালত ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আসামি আফরোজা খাতুনের বিরুদ্ধে পাচারের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের বিচারক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর তিন আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে। বর্তমানে মামলার আসামি আফরোজা পলাতক রয়েছে।
আকরামুল ইসলাম/আরএআর/পিআর