পাহাড় ধস ও কাপ্তাই লেকের ভাঙনে চরম ঝুঁকিতে বাস করছেন রাঙামাটির বহু মানুষ। তবে ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনকে বার বার নিরাপদে সরে যেতে বলা হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সম্প্রতি রাঙামাটিসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘটেছে পাহাড় ধসের ঘটনায় এক নারীর প্রাণহানি ঘটেছে। উদ্বাস্তু হয়েছেন পাহাড় ধসের শিকার ২০ পরিবারের মানুষ। এদিকে সাম্প্রতিক বর্ষণ এবং উজান থেকে নামা পাহাড়ী ঢলে কাপ্তাই লেক এখন পানিতে টই-টম্বুর। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লেক তীরবর্তী বসবাসকারী বহু মানুষ। এছাড়া অতিরিক্ত পানি বাড়ায় ঢলের স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙছে কাপ্তাই লেকের পাড়। বিলীন হয়ে যাচ্ছে বাড়িঘর ও ফসল। আর এর কবলে পড়েছেন পাড়ের মানুষ। একদিকে পাহাড় ধস, অন্যদিকে লেকের ভাঙন আর বন্যার কবলে পড়ে চরম দুর্গতি বেড়েছে কাপ্তাই লেকের পাড়ে বসবাসকারী লোকজনের। এতে দিন দিন বাড়ছে জানমালের ঝুঁকি। যে কোনো মুহূর্তে মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, কাপ্তাই লেকে পানির চাপ কমাতে কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্প্রিলওয়ে খুলে দিয়ে পানি ছাড়া অব্যাহত থাকলেও লেকে পানির উচ্চতা এখনও অস্বাভাবিক পর্যায়ে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। লেকের স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পানি থাকার কথা ৯০ ফুট বা এমএসএল (মীন সী লেভেল) উচ্চতায়। বর্তমানে পানি রয়েছে ১০৫ ফুট উচ্চতায়। অন্যদিকে কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিপাত কমে পাহাড় ধস কমে এলেও ঢলে ভাঙছে লেকের পাড়। শহরের রিজার্ভবাজার চেঙ্গিমুখ, ডিসি বাংলো এলাকা, পুলিশ লাইনসহ কাপ্তাই লেক সংলগ্ন জেলার বিভিন্ন জায়গায় ভাঙনের খবর পাওয়া গেছে। এর কবলে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয় লোকজন। রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে মিলিয়ে যাওয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের কাচালং, মাইনী, চেঙ্গী, হরিণা, সুবলং ও রাইংখিয়ং নদী তীরবর্তী রাঙামাটি শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের খবর পাওয়া গেছে। শহরের চেঙ্গিমুখ এলাকায় কয়েকশ’ পরিবারের মানুষ কাপ্তাই লেকের ভাঙন ও পাহাড় ঝুঁকিতে পড়েছেন। পাহাড়ি ঢলে এবং লেকের পানি বাড়ায় তলিয়ে গেছে অনেক নিম্নাঞ্চল। কয়েক দিন আগে তলিয়ে গেছে রাঙামাটির ঝুলন্ত ব্রিজটি। কাপ্তাই লেক সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। জানা যায়, চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষণে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন স্থানে কাপ্তাই লেকের ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছেন লেকপাড়ের মানুষ। ভাঙনের আশঙ্কা ক্রমে বাড়ছেই। স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর নদী ভাঙনের তীব্রতা অনেক বেড়েছে। শহর এলাকা ছাড়াও রাঙামাটি জেলার দুর্গম বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় লেক সংলগ্ন নদী ভাঙনে নিম্ন এলাকার বহু ঘরবাড়ি, ফসল ও রাস্তাঘাট বিলীন হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকে গৃহহারা হয়ে উদ্বাস্ত হয়েছেন। কাপ্তাই লেক সংলগ্ন মাইনী নদীর অব্যাহত ভাঙনে গুলশাখালী, পাবলাখালী, কবাখালী, শান্তিপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম ও চাষযোগ্য জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মাইনী নদীও কাপ্তাই লেকের অংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশেষ করে কাচালং, চেঙ্গী ও মাইনী নদী গতিপ্রবাহ হারিয়ে ফেলেছে। নদীর তলদেশে ভরাট হয়ে স্রোতধারার গতি প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ফলে সময়ে অসময়ে স্রোতধারা সৃষ্টি করে আঘাত হানে। সুশীল প্রসাদ চাকমা/এসএস/এমএস