ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য শহরের রেলক্রসিংয়ের উপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতির ওভারপাস নির্মাণ কাজ মন্ত্রীর নাম ফলকেই আটকা পড়ে আছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দেড় বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত শুরু হয়নি ওভারপাস নির্মাণ কাজ।জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ প্রতিশ্রুতির আলোকে ২০১৩ সালের শেষের দিকে জেলা শহরের ডাক বাংলোর মোড় থেকে আশিক প্লাজা পর্যন্ত ৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৫৬ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ওভারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। সে বছরের ১৪ নভেম্বর ওভারপাস নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়। তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল ম.কতাদির চৌধুরীর যৌথভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মন্ত্রী না আসায় সংসদ সদস্য মোকতাদির চৌধুরী ওভারপাস নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মূলত এরপর থেকেই ওভারপাস নির্মাণ কাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়। ওভারপাস নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ফলে শহরের প্রাচীন কালী বাড়ি মন্দির ও খ্রীষ্ট ধর্মালম্বীদের একটি গীর্জা ভাঙার অজুহাতে আন্দোলনে নামেন হিন্দু ও খ্রীষ্ট ধর্মালম্বীরা। ওভারপাস নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবিতে কয়েক দফা মানবন্ধনসহ বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এর ফলে ওভারপাসের ভূমি অধিগ্রহণ কাজ পিছিয়ে পড়ে। তবে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা কেটে যাওয়ায় শিগগিরই ওভারপাস নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের রেলক্রসিং এলাকায় দু’পাশে সৃষ্ট তীব্র যানজটজেলা সওজরে নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার ভট্টাচার্য জাগো নিউজকে বলেন, ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে ওভারপাস নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা এখন কেটে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া ওভারপাস নির্মাণ কাজের জন্য চলতি বছরের ২২ জুলাই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত ঠিকাদারদের কাছ থেকে দরপত্র জমা নেয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবর মাসের শেষ অথবা নভেম্বর মাসের প্রথম দিকেই ওভারপাস নির্মাণের মূল কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।এদিকে জেলা শহরের একমাত্র রেলক্রসিংয়ের ফলে প্রতিদিন শহরের কালী বাড়ি মোড় থেকে ডাক বাংলোর মোড় পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে রিকশা ও ব্যাটরিচালিত ইজিবাইক আটকে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এর ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।কয়েকজন পথচারীর সঙ্গে কথা হলে তারা জাগো নিউজকে জানান, একমাত্র রেলক্রসিংয়ের কারণে প্রতিদিন ২০/২৫ বার রেলগেট পড়ার কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজটের এই চিত্র স্বাভাবিক হতে ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। যদি এই রেলক্রসিংয়ের উপর ওভারপাস নির্মিত হয় তাহলে যানজটের এই ভোগান্তি থেকে জেলাবাসীর মুক্তি মিলবে বলে জানান তারা।আজিজুল আলম সঞ্চয়/এসএস/এমএস