ঠাকুরগাঁওয়ে জমির দলিলে স্বাক্ষর না করায় ছেলে মনসুর আলীকে (১২) শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে বাবা মুসা আলীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বি এম তারিকুল কবীর এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মুসা আলী সদর উপজেলার শুখানপুখুরী লাউথুতি গ্রামের মৃত জেল হকের ছেলে।
অভিযোগে জানা যায়, ১৮ বছর পূর্বে মুসা আলীর সঙ্গে মঞ্জুরা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর তাদের একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। মুসার জুয়া খেলার নেশা থাকায় বিয়ের এক বছর পরেই সন্তান মনসুরকে রেখে স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম স্বামীকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেন। পরবর্তীতে শিশু মনসুর আলী সদর উপজেলা বড়বালিয়া বাগুলাডাঙ্গী গ্রামে তার নানাবাড়িতে থেকে বড় হয়।
এরই মধ্যে মুসাও দ্বিতীয় বিয়ে করলে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও অন্যান্যদের সমঝোতায় প্রথম স্ত্রীর সন্তান মনসুর আলীর নামে ভবিষ্যতের জন্য ২০ শতক আবাদি জমি রেজিস্ট্রি করে দেন মুসা। এরই মধ্যে মুসা জুয়া খেলায় হেরে যাওয়ায় উক্ত জমি অন্যান্য জুয়াড়িদের কাছে বন্ধক রাখেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ১২ অক্টোবর ছেলে মনসুরকে ঈদের কাপড় কিনে দেয়ার নাম করে তার নানাবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে মুসা।
পরে ১৭ অক্টোবর রাতে ছেলে মনসুর আলীকে কাগজে সই দিতে বললে সে সই দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মুসা। ঘটনা গোপন রাখতে রাতেই মনসুরের মরদেহ বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে রাখে মুসা। পরে মুসার ভাই ফজল হক ভোরে পুকুরের পানিতে মরদেহ ভাসতে দেখে চিৎকার করে ও স্থানীয়দের খবর দেয়।
এ ঘটনায় মুসার ভাই ফজল হক বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করলে পুলিশ মুসাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায় ও আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আজ আদালত এ রায় দেন আদালত।
রবিউল এহসান রিপন/আরএআর/পিআর