দেশজুড়ে

অল্প টাকা হলেই বেঁচে যাবে জাফর

কোরবানির ঠিক আগ মুহূর্তে দেশের সব শ্রেণির মানুষ ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন পশু কেনাবেচায়। ঠিক সেই মুহূর্তে হোটেল শ্রমিক অসহায় বাবা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তার দুই বছরের সন্তানকে বাঁচাতে।শিশু জাফরের হার্টে এখন দুটি ছিদ্র। আগে তিনটি ছিদ্র ছিল। কিছুদিন আগে অপারেশনের মাধ্যমে একটি ছিদ্র বন্ধ করা হয়েছে। প্রথম ছিদ্রটির অপারেশনের পর ডাক্তার জাফরের বাবা আমিরুলকে বলেছিল আট মাস পর তাকে আবারও ঢাকায় নিয়ে আসতে। কিন্তু চিকিৎসার খরচ যোগাতে না পারায় আর ঢাকা আসা হয়নি বাবা-ছেলের।

ঠাকুরগাঁও শহরের গাওসিয়া হোটেলের কর্মচারী আমিরুল জানায়, এক বছর আগে হঠাৎ করেই জাফরের ঘন ঘন সর্দি কাশি হতে লাগলো। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েও কোনো লাভ হচ্ছিল না। পরে ঠাকুরগাঁওয়ের ডাক্তারদের পরামর্শে তাকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে যাই। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর তার হার্টে দুইটি ছিদ্র ধরা পড়ে। এটা জেনেই মাথায় পাহাড় ভেঙে পড়ে আমার। পরে সেখানকার চিকিৎসকরা পরামর্শ দেয় তাকে রাজধানীর শ্যামলী-কলেজ গেটে অবস্থিত হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে নিয়ে যাওয়ার। তিনি বলেন, এ হাসপাতালে নিয়ে আসার পর পুনরায় তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এখানে তার হার্টে আরও একটি বেশি মোট তিনটি ছিদ্র ধরা পড়ে। সব রিপোর্ট দেখার পর এখানকার চিকিৎসক ডা. আবু হাসান জানান, যতদ্রুত সম্ভব জাফরের অপারেশন করাতে হবে। তিনি প্রাথমিকভাবে তার অপারেশন করে একটি ছিদ্র বন্ধ করেন এবং আট মাস পর জাফরকে নিয়ে আবার ঢাকায় আসার কথা বলেন। কিন্তু এরপর আর ঢাকা যেতে পারিনি। কারণ আজও চিকিৎসার খরচ যোগাড় করতে পারিনি।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মুন্সিপাড়া গ্রামের হোটেল শ্রমিক আমিরুলের দুটি পুত্র সন্তান। একজনের নাম রবিউল। আরেকজন হলো জাফর। রবিউলের বয়স সাড়ে তিন বছর। আর জাফরের দুই বছর। আমিরুলের সামান্য আয়ে ভালোই চলছিল তার সংসার। কিন্তু হঠাৎ করেই সন্তানের অসুস্থতা তার সাজানো সংসারটা তছনছ করে দেয়।

সন্তানের চিকিৎসার টাকা যোগাড় করতে এদিক-সেদিক ছুটতে ভালোমতো চাকরিটাও করতে পারছেন না আমিরুল। এতে তার সংসারও চলছে না ভালোভাবে।

ডাক্তাররা জানিয়েছেন, শিশু জাফরকে বাঁচাতে খুব বেশি টাকার প্রয়োজন নেই। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও মিরপুর হার্ট ফাউন্ডেশনেই এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব।

আর মাত্র ৪ দিন পর কোরবানি ঈদকে ঘিরে আমাদের সমাজের কিছু মানুষ যখন অনেক টাকায় কেনা বড় সাইজের গরু কোরবানি দিয়ে এলাকায় নিজের পরিচিতি জানান দেয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে একজন বাবা তার সন্তানকে বাঁচাতে সামান্য টাকা যোগাড় করা নিয়ে ব্যস্ত। আসুন মনের পশুকে কোরবানি দিয়ে একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসি। শিশু জাফরকে বাঁচাতে বা এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে পারেন তার বাবার নম্বরে ০১৭৬২-৯২২৯৬১।

এমএএস/এমএস