দেশজুড়ে

পর্যটক বরণে প্রস্তুত সাগরকন্যা কুয়াকাটা

এবার কোরবানি ঈদে সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সৈকতে অনেক বেশি পর্যটক সমাগম ঘটতে পারে বলে আশা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। আর এ কারণে ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেলসহ স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা তাদের সার্বিক প্রস্তুতি শেষ করেছেন।

পর্যটকদের ঈদ আনন্দ আরো বড়িয়ে দিতে স্থানীয় মার্কেটের রাখাইন তরুণীরা বিভিন্ন সামগ্রীর পসরা নিয়ে বসে গেছেন। সৈকতে বসার বেঞ্চ ও ছাতায় এখন নতুনত্বের ছোঁয়া।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ছাড়াও গঙ্গামতি, সীমাবৌদ্ধ মন্দির, মিশ্রীপাড়া বৌদ্ধবিহার, লেম্বুর চরসহ কুয়াকাটায় অন্তত ১০টি পর্যটন স্পট রয়েছে যা পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরিফ জানান, বর্ষা মৌসুমে কুয়াকাটায় পর্যটকদের আনাগোনা কম থকলেও এবারের ছুটি বেশি থাকায় পর্যটকেদের আগমন ঘটবে। এতে বাড়তি আয় করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. খলিলুর রহমান জানান, বাড়তি পর্যটকদের সামাল দিতে জেলা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও নৌ পুলিশের সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে মামলা জটিলতায় বছরের পর বছর পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কের ১১ কিলোমিটারের নির্মাণ কাজ আটকে থাকায় যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল সড়কটি। কিন্তু আসন্ন ঈদ মৌসুমে পর্যটক টানতে সড়কটি সংস্কার করে চলচলের উপযোগী করছে সড়ক বিভাগ। জানা গেছে, ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে ২০ কোটি টাকা চুক্তি মূল্যে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাখিমারা বাজার থেকে কুয়াকাটা শেখ রাসেল সেতু পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ পায় ‘দি রুপসা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’। ২০১২ সালে সড়কের কাজ শেষে হলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাদের কাজের মান যাচাই করে ১৫ কোটি টাকা বিল প্রদান করে।

তবে কাজের মান ঠিক না হওয়ায় বাকি পাঁচ কোটি টাকা আটকে দেয় কৃর্তপক্ষ। কিন্তু কাজ না করেই টাকার দাবি করে ২০১৪ সালের নভেম্বরে আদালতে মামলা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। নিম্নমানের কাজের কারণে সেই থেকে বেহাল অবস্থা সড়কটির।

সড়ক বিভাগের শ্রমিক নিজাম মৃধা জানান, দু’দিন বাদে ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে সড়কটি সংস্কার করে চলচলের উপযোগী করছেন তারা।

পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, মামলা জটিলতা শেষ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। তবে বর্তমানে সড়কটি চলাচল উপযোগী করতে কাজ চলমান রয়েছে। পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের মোট ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে এই ১১ কিলোমিটার সড়ক ছাড়া বাকি সড়কের মান মোটামুটি ভালো। তাই এ সড়কটি পুনঃনির্মাণ করা হলে কোনো ধরনের বিড়ম্বনা ছাড়াই পর্যটকরা নির্বিঘ্নে কুয়াকাটায় যাতায়াত করতে পারবেন।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/এমএস