দেশজুড়ে

মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ, ৪ পুলিশকে মারধর

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ইয়াবা দিয়ে যুবককে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে মারধর করেছে এলাকাবাসী। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আহত চার পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ঝাউগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইয়াবা দিয়ে যুবককে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে ৪ পুলিশকে মারধর করা হয়।

তবে পুলিশ বলছে মাদকদ্রব্যের এক আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে আসামি পক্ষের লোকজনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে আড়াইহাজার থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কাসেম, পিএসআই (শিক্ষানবিশ উপ-পরির্শক) মোফাজ্জল হোসেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক মোস্তফা ও সহকারী উপ-পরিদর্শক হেলাল সাদা পোশাকে দুটি মোটরসাইকেলযোগে উপজেলার ঝাউগড়া এলাকায় যান। এ সময় অটোরিকশা চালক রমজান আলীকে মাদকদ্রব্য দিয়ে আটক করে ফাঁসানোর চেষ্টা করে পুলিশ তাকে মারধর শুরু করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যারা স্থানীয় লোকজনের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করেন।

পরে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে চার পুলিশ সদস্যকে ধরে গণপিটুনি দেয়। আহত এসএই আবুল কাসেম ও পিএসআই মোফাজ্জল হোসেনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অপর দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

পুলিশের মারধরে আহত রমজান হোসেন জানান, উপজেলার ঝাউঘরা গোরস্থান সংলগ্ন আমার বাড়িতে এসে আমার পকেটে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করে পুলিশ।

আড়াইহাজার থানার ওসি এমএ হক জানান, আড়াইহাজার থানা পুলিশের চার কর্মকর্তা সিভিল পোশাকে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালান। এ সময় আসামির পক্ষের লোকজনের সঙ্গে পুলিশের তর্কাতর্কি হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, গত বুধবার রাতে ঝাউগড়া এলাকা থেকে এক নারী ওসির মোবাইলে ফোন দিয়ে জানায় রমজানের ঘরে মাদক দব্য রয়েছে। ওসি এমএ হক বৃহস্পতিবার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কাসেমকে ওই মোবাইল নম্বরটি দিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিতে বলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পায়নি। কিন্তু এরই মধ্যে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

শাহাদাত হোসেন/এফএ/এমএস