দেশজুড়ে

কুষ্টিয়ায় শিশু আকিফার মৃত্যু হত্যা মামলায় পরিণত

কুষ্টিয়ায় শিশু আকিফাকে ধাক্কা দেয়া গঞ্জেরাজ পরিবহনের সেই মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সেই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি ৩০২ ধারায় (হত্যা মামলা) সংযোজন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে আকিফা মৃত্যুর ঘটনার দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুমন কাদেরীর আবেদনের ভিত্তিতে এ আদেশ প্রদান করেন কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক এমএম মোর্শেদ। এর আগের দিন সোমবার বিচারক এমএম মোর্শেদ ওই দুই আসামিকে জামিন প্রদান করেন।

এর আগে রোববার ফরিদপুর থেকে বাসের মালিক জয়নালকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে তাকে কুষ্টিয়ায় এনে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। আর ড্রাইভার মহিদ মিয়া ওরফে খোকন সকালে (সোমবার) আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান।

কুষ্টিয়া কোর্টের জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার (জিআরও) এসআই আজাহার উদ্দিন জানান, আকিফার বাবার দায়ের করা মামলায় গঞ্জেরাজ পরিবহনের মালিক জয়নাল মিয়ার পক্ষে সোমবার তার আইনজীবীরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম মোর্শেদের আদালতে জামিন আবেদন করেন। একই সময়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ড্রাইভার মহিদ মিয়া ওরফে খোকন। পরে আদালত দুইজনকে জামিন দেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুমন কাদেরী তদন্ত করে আকিফাকে বাস চাপা ও মৃত্যুর জন্য চালক ও মালিককে দায়ী করে তথ্য উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করে আবেদন করেন।

পরবর্তীতে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক এমএম মোর্শেদ আকিফা মৃত্যুর মামলায় ৩০২ ধারা সংযোজন করে জামিন বাতিল করে মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। প্রসঙ্গত, গত ২৮ আগস্ট বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজশাহী থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা গঞ্জেরাজ পরিবহনের একটি বাস শহরের চৌড়হাস মোড়ের কাউন্টারে এসে থামে। ওই সময় থেমে থাকা বাসের সামনে দিয়ে আট মাস বয়সী শিশু কন্যা আকিফাকে কোলে নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন মা রিনা বেগম। হঠাৎ কোনো হর্ণ ছাড়াই চালক খোকন বাসটি চালিয়ে দেন। এতে মায়ের কোল থেকে রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে আহত হয় শিশু কন্যা আকিফা। বাসের ধাক্কায় রিনা বেগমও আহত হন। মুমূর্ষু আবস্থায় ওই দিন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আকিফাকে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ আগস্ট মারা যায় শিশুটি। আকিফা কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস এলাকার সবজি ব্যবসায়ী হারুন উর রশিদের মেয়ে।

এ ঘটনায় ওই দিন রাতে নিহত আকিফার বাবা হারুন উর রশীদ বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় ঘাতক বাসের চালক খোকন, সুপারভাইজার ইউনুস মাস্টার এবং ওই বাসের মালিক জয়নুলকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

আল-মামুন সাগর/এমএএস/আরআইপি