দেশজুড়ে

চিকিৎসকের অভাবে দুর্ভোগে পঞ্চগড়বাসী

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পঞ্চগড়ের মানুষ। পর্যাপ্ত চিকিৎসকসহ জনবলের অভাবে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে ১০০ শয্যার পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে মুখ থুবড়ে পড়েছে চিকিৎসা সেবা।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ২/৩ দিনেও চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে চিকিৎসা ছাড়াই ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা। এ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১৯৮৩ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয় পঞ্চগড় সদর হাসপাতাল। এর ২০ বছর পর ২০০৩ সালে ১০০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালে পরিণত হয় এটি। তবে দীর্ঘ দিনেও বৃদ্ধি পায়নি এখানে স্বাস্থ্যসেবার মান।

বর্তমানে বিভিন্ন বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই চলছে হাসপাতালটি। ৩৬ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৮ জন। এদের মধ্যে আবার ২-৩ জন প্রশিক্ষণসহ নানা কারণে বাইরে থাকেন। ১০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও এখানে গড়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। এছাড়া প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ জন পর্যন্ত রোগী বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নেন।

সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা। ৯ দিন ভর্তি থেকেও চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাওয়ার সময় দেখা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের সঙ্গে। আবুল কাশেমের বাড়ি জেলা শহরের কামাতপাড়া এলাকায়।

পেশায় ইলেক্ট্রনিক মেকানিক আবুল কাশেম বলেন, শ্বাসকষ্ট আর বুকের ব্যথা নিয়ে ৯ দিন ধরে হাসপাতালে পড়ে আছি। কোনো চিকিৎসা পাইনি। ডাক্তার বলছেন, এখানে চিকিৎসা হবে না। তাই ছাড়পত্র নিয়ে চলে যাচ্ছি। ভালো চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার একটা ব্যবস্থা করতে হবে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসক সঙ্কটের মধ্যেও তারা যথাসাধ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, ভর্তিকৃত রোগী ছাড়াও হাসপাতালের বহিঃবিভাগে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫শ রোগী দেখতে হয়। আমাদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চেষ্টা করে যাচ্ছি। নতুন নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন চিকিৎসকের যোগদানের কথা রয়েছে। সেক্ষেত্রে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করি।

এদিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মোশারফ হোসেন একাই মেডিসিন এবং হৃদরোগীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দিতেন। সম্প্রতি তিনি অবসর গ্রহণ করায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রোগীরা।

গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। হাসপাতালে গাইনি রোগীরা পর্যাপ্ত সেবা না পেয়ে বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। এসব প্রাইভেট ক্লিনিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই কোনোমতে সিজারিয়ান অপারেশন করে ইচ্ছামত অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। আর রোগীর স্বজনরাও নিরুপায় হয়ে তাদের কাছেই ছুটে যাচ্ছেন প্রসূতি রোগীদের নিয়ে।

তবে সম্প্রতি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে নতুন করে ১৪ জন চিকিৎসক নিয়োগের কথা জানালেন সিভিল সার্জন ডা. নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসকের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে আমরাও বিপাকে পড়েছি। এখানে জরুরিভাবে একজন করে গাইনি, হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন। পাশপাশি জনবল সঙ্কটও রয়েছে। তবে সম্প্রতি নতুন নিয়োগ পাওয়া ১০ জন মেডিকেল অফিসার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে যোগদান করেছেন। আরও চারজন চিকিৎসকের যোগদান করার কথা রয়েছে। আশা করছি, জেলায় স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি পাবে।

এফএ/জেআইএম