সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেছেন, আমরা সরকার প্রধানকে বলবো- আপনি রাজনীতির ঊর্ধ্বে এসে সকল হত্যার বিচারের নির্দেশ দিন। অপরাধী যারা চিহ্নিত হয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনুন। এই জন্য বলছি আজকে আমাদের দেশে কোনো কাজই সম্পূর্ণ হয় না প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছাড়া। আপনি যদি নির্দেশ দেন তাহলেই ত্বকী হত্যার বিচার হবে, না হলে হবে না। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) ঘোষণা দেন বা না দেন আপনার অঘোষিত নির্দেশেই ত্বকী হত্যার বিচার বন্ধ হয়ে আছে। যেই পরিবারগুলো তাদের সন্তান হারিয়েছে তাদের দাবি মেনে নিন।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংস্কৃকিত জোটের মাসিক মোমশিখা প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে যে সকল হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। ত্বকী, ত্বকীর আগে ও পরে যে সকল হত্যাকাণ্ড হয়েছে তার বিচার সম্পন্ন করুন। আমরা সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। সালমান সাকি নামে দেড় বছরের যে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে খুঁজে দিচ্ছি বলে পুলিশ যেভাবে ঘুরাচ্ছে আমরা তার প্রতিবাদ জানাই। শিশুটিকে খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছি। যে বিচারগুলো হয় না, সে বিচারগুলোর জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট নিষেধ থাকে।
রফিউর রাব্বি বলেন, আশির দশকের নিপীড়ন ভুলে যেতে পারি না। কারা ভুলে যেতে চায়? যারা নিপীড়ক, হত্যাকারী। আমরা এই ভুলে যাবার বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রামকে জীবিত রাখার জন্যই শিখা প্রজ্জ্বলন করি। আমাদের এই ৬৭ মাসের কার্যক্রমের অর্থ হচ্ছে আমরা সেই হত্যাকাণ্ডকে ভুলে যাইনি। যেটি শাসক শ্রেণি আমাদের ভুলিয়ে দিতে চেয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃকিত জোটের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পাটির সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, বাসদ নেতা সেলিম মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহিদুল হক দিপু, সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, খেলাঘর আসরের সভাপতি রথীন চক্রবর্তী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শাহাদাত হোসেন/আরএআর/জেআইএম