দেশজুড়ে

বিএনপি অফিসে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে সরিষাবাড়ী পৌর এলাকার আরামনগর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের প্রার্থিতা স্থগিত করে হাইকোর্ট। এ আদেশের পর রোববার হাইকোর্টে আপিল করেন শামীম তালুকদার। সোমবার আপিলেও তার প্রার্থিতা স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এ খবর পেয়ে আরামনগর বাজারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভার উদ্দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করে। মিছিল নিয়ে তারা আরামনগর বাজারে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে হামলাকারীরা বাজারে ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেল ও ২৫ থেকে ৩০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

এ সময় আতঙ্কে বাজারের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন। এ খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চলে যান এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা গা-ঢাকা দেন। পরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুরকারীদের শাস্তি ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন আরামনগর বাজারের ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. মুরাদ হাসান আরামনগর বাজারে নির্বাচনী পথসভা করেন। এ পথসভায় বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এর প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আরামনগর বাজারে মিছিল করতে থাকে। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিম উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আরামনগর বাজারে আওয়ামী লীগের পথসভা চলাকালে হঠাৎ তারা জানতে পারেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের প্রার্থিতা স্থগিত বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এ খবর পেয়ে পথসভা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বিএনপির কার্যালয় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে ও আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ও বেশ কিছু মোটরসাইকেলে হামলা করে ভাঙচুর চালায়।

আরএআর/এমএস