লিবিয়ার উপকূলে ভূমধ্যসাগরে কয়েকশ অভিবাসন প্রত্যাশী নিয়ে দুটি নৌকা ডুবে নিহতদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় মোট ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।নিহতরা হলেন, নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার মোহাম্মদ রমজান (৫৮), তার স্ত্রী সাহেরা খাতুন (৪২) ও ছয় বছরের শিশু ইউসুফ আলী। বেঁচে যাওয়া ইয়াসিন রিমন (২২)ও শাহনেওয়াজ ওরফে রিদওয়ানকে(১৬)সেখানকার পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।এছাড়া তাদের বোন ১১ বছর বয়সী খাদিজা আক্তারকে উদ্ধারের পর লিবিয়ার সিরতে নামক এলাকার একটি বাংলাদেশি স্কুল শিক্ষকের বাড়িতে রাখা হয়েছে।সাহেরা খাতুনের বাবা হাজী সিরাজউদ্দিন মুন্সি জাগো নিউজকে জানান, ১৯৮১ সালে রমজান আলী লিবিয়াতে চলে যায়। এর আগে তারা ওই এলাকাতেই কৃষিকাজ করতো। ভাগ্য বদলের আশায় লিবিয়াতে গিয়ে ১৯৮৮ সালে দেশে এসে বিয়ে করেন পাশের এলাকার সাহেরা খাতুনককে।বিয়ের পর তাকেও নিয়ে যায় লিবিয়াতে। তিনি বলেন, আমার শেষ ইচ্ছে মেয়ে, মেয়ের জামাতা আর মারা যাওয়া নাতির লাশ যাতে দেশে আনা হয়। তাহলে তাদের নিজ হাতে দাফন কাফন করতে পারতাম। অন্যদিকে সাহেরা খাতুনের ভাই সাইফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ রমজানের ভাই দিদার আলী জাগো নিউজকে জানায়, ইয়াসিন রিমু ও রিদওয়ান এখন লিবিয়ার পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।আমাদের দাবি এই দুজনকে যেন জাতিসংঘ ভালো কোনো দেশে পাঠিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। রমজান আলী লিবিয়ার বিমানবন্দরসহ বিভিন্নস্থানে বৈদ্যুতিক কাজ করতো। মাঝেমধ্যে তিনি গাড়িও চালাতো। আর সাহেরা খাতুন ছিলেন গৃহীণি। সর্বশেষ ২০০৩ সালে পবিত্র হজ পালনের জন্য পুরো পরিবার দেশে এসেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবারটি লিবিয়াতে রয়েছে। সন্তানদের সবার জন্ম হয়েছে লিবিয়ায়। তবে দেশটির পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ায় তারা সমুদ্রপথে ইটালি যাবার চেষ্টা করছিলেন। নৌকার তলদেশে ফুটো থাকায় প্রায় একঘণ্টা যাওয়ার পরে নৌকাটি উল্টে যায়। দেশান্তরী প্রায় পাঁচশ মানুষকে নিয়ে ইটালি হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় লিবিয়ার জোওয়ারা শহরের কাছে ভূমধ্যসাগরে বৃহস্পতিবার নৌকা দুটি ডুবে যায়। এর মধ্যে প্রথম যে নৌকাটি থেকে সাহায্য চেয়ে সংকেত পাঠানো হয়, তাতে প্রায় একশ জন ছিলেন। আর ঘণ্টাখানেক পর ডুবে যাওয়া দ্বিতীয় নৌকায় চারশর বেশি আরোহী ছিলেন বলে বিবিসির খবর জানা গেছে। শাহাদাৎ হোসেন/এমএএস/এমআরআই