অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, বাকস্বাধীনতা ও অধিকার চর্চার যে ধারা শুরু হয়েছে—তা যেন কখনো থেমে না যায়।’
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে তাদের আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে অনুপ্রেরণা হিসেবে ধারণ করার আহ্বান জানান।
বিদায়ী ভাষণে তিনি দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এসব সংস্কারের মাধ্যমে নাগরিক অধিকার সংহত, বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী এবং গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি রোধে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পৃথক সচিবালয় গঠন, স্বচ্ছ নিয়োগ কাঠামো এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে পরিবর্তন করা হয়েছে।’
তিনি গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধনের বিষয়টি উল্লেখ করে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ ছিল দেশকে সচল করা। এটা ছিল সবচাইতে কঠিন কাজ। যারা দেশকে লুটেপুটে খেত তারাই দেশের এই যন্ত্র চালাতো। তাদের একান্ত অনুগত লোক নিয়ে অভ্যুত্থানের সঙ্গে সঙ্গে সবাই পালিয়েছে। বড় কর্তা পালিয়েছে। মাঝারি কর্তা পালিয়েছে। অন্যরা ভোল পাল্টিয়েছে। অথবা আত্মগোপনে চলে গেছে। কেউ নানাজনের সুপারিশ নিয়ে আসছে তারা অভ্যুত্থানের গোপন সৈনিক ইত্যাদি। সরকারের ভেতরে যারা পালিয়ে যায়নি তাদের মধ্যে কাকে বিশ্বাস করবেন, কাকে করবেন না- এটি মহাসংকট হয়ে দাঁড়াল। যতই মৃতদেহের, অঙ্গপ্রত্যঙ্গহীন দেহের সন্ধান আসছিল ততই তারা চিহ্নিত হচ্ছিল।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে। বিজয়ী ও পরাজিত সব প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, হার-জিতই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
কেএসআর/আরএইচ