স্বাস্থ্য

ভালো আছেন সিরাজুল : চা খাচ্ছেন গান শুনছেন দেখছেন বিশ্বকাপ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন লিভার প্রতিস্থাপনের রোগী সিরাজুল ইসলাম ভালো আছেন। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আয়েশ করে চা পান করছেন। মাঝে মধ্যে শুনছেন পছন্দের গান। চিকিৎসকদের কাছে বায়না ধরে গতকাল (শুক্রবার) মোবাইল ফোনে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলাও দেখেছেন। নরমজাতীয় স্বাভাবিক সব খাবারই নিজের হাতে খেতে পারছেন। বেডে শুয়ে থাকতে ভালো না লাগলে মাঝে মধ্যে রুমে পায়চারী করছেন।

অস্ত্রোপচারের দুই সপ্তাহ পর লিভার প্রতিস্থাপনের নেতৃত্বদানকারী চিকিৎসক বিএসএমএমইউয়ের হেপাটোবিলিয়ারি প্যানক্রিয়াটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. জুলফিকার রহমান জানান, সার্বিকভাবে সিরাজুল ইসলাম ভালো আছেন। অস্ত্রোপচারজনিত জটিলতা নেই। তবে বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের পর দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বায়োকেমিক্যাল কিছু সমস্যা এখনও রয়েছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে এর চিকিৎসা চলছে। তবে সিরাজুল ইসলামকে সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত বলা যাবে না। তাকে আরও চার সপ্তাহ নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি জানান, লিভারদাতা সিরাজুল ইসলামের মা সম্পূর্ণ ভালো আছেন। দু-একদিনের মধ্যে তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হবে।

আজ (শনিবার) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিল্টন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লিভার ট্রান্সপ্লান্ট চালু ও ২০ বছর বয়সী যুবক সিরাজুল ইসলামের জটিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল কিডনি ট্রান্সফার-সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

অধ্যাপক জুলফিকার রহমান খান লিখিত বক্তব্যে জানান, আজ অপারেশনের ১৪তম দিন। লিভারদাতা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। তার ব্লাড প্রেসার ও রেস্পিরেশন নরমাল। তিনি স্বাভাবিক মুখে আহার গ্রহণ করছেন। তার বায়োকেমিক্যাল কিছু এবনরমালিটি আছে। যেহেতু তিনি উচ্চমাত্রার ইমিউনো সাপ্রেশন মেডিসিন পাচ্ছেন, সেহেতু তার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তার প্রতিস্থাপিত লিভার কাজ শুরু করেছে; তবে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করতে চার-ছয় সপ্তাহ সময় লাগবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অস্ত্রোপচারের দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কিডনিদাতা ও কিডনি গ্রহণকারী দুজনের ওপর নির্মিত একটি ভিডিওক্লিপ প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওতে দেখা গেছে, সিরাজুল ইসলাম নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে বিছানা থেকে নেমে পায়চারী করছেন। বসে চা খাচ্ছেন আবার কখনো নিজ হাতে স্বাভাবিক খাবার খাচ্ছেন। অস্ত্রোপচারের চারদিন পর থেকেই তার মাকে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করানো হয়। তার মা তাকে লিভারের শতকরা ৬০ শতাংশ দান করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, সফল অস্ত্রোপচারের জন্য জুলফিকার রহমানের নেতৃত্বে ৬০ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল নিরলস পরিশ্রম করেছে। এখনও করছে। সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় সিরাজুল ইসলাম নামে ২০ বছর বয়সী ওই যুবক অনেক ভালো আছেন। তার মা সুস্থ হওয়ায় রিলিজ দেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো লিভার প্রতিস্থাপনের রোগী ও তার মা সম্পর্কে খোঁজখবর রেখেছেন। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মাঝে যেন সংক্রমণ না ছড়ায় সে জন্য বিশেষ যত্ন নিতে বলেছেন।

উপাচার্য জানান, গত ২৪ জুন বিএসএমএমইউয়ের ৬০ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল প্রায় ১৮ ঘণ্টা অস্ত্রোপচার অংশ নেয়। তাদের সহায়তা করে ভারতের খ্যাতনামা লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ একটি দল।

উপাচার্য আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিন-চারজন রোগীর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা হবে। পরবর্তীতে সব খরচ বিবেচনায় প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। তবে বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে বাংলাদেশ লিভার ট্রান্সপ্লান্ট খরচ অনেক কম হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক জুলফিকার রহমান খান জানান, তার জানা মতে প্রতিবেশী দেশ ভারতে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট খরচ এক কোটি ও সিঙ্গাপুরে দুই কোটি টাকা। বাংলাদেশে এ খরচ ২৫ লাখ টাকার মতো হবে।

এমইউ/বিএ/এমকেএইচ