দেশজুড়ে

দেখা হলো, কথা হলো কিন্তু ছুঁয়ে দেখা হলো না

দুই বাংলার স্বজনদের পদচারণায় মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ও ভারতের খুকী কুলীবাড়ি সীমান্ত এলাকা। হাঁটুজল পেরিয়ে এপার বাংলা-ওপার বাংলার হাজারও মানুষের ঢল নামে সীমান্তে। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের কাছে পেয়ে আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি বিনিময় করেন নানা উপহার সামগ্রী।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষেরা এসে জড়ো হয় প্রায় ২ কিলোমিটারজুড়ে কাঁটাতারের বেড়ার উভয় পাশে। দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন থাকায় একে অপরের সঙ্গে মিলিত হওয়ার এ সুযোগ হাত ছাড়া করতে চায় না কেউ। কালীপূজা উপলক্ষে প্রতি বছর দুই দেশের স্বজনদের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই সীমান্ত।

সরেজমিনে দেখা যায়, সীমান্তের সানিয়াজান নদীর হাঁটুজল পেরিয়ে নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ ছুটে আসেন কাঁটাতারে বেড়ার দিকে। এতে সীমান্তে অন্যরকম উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। দুই বাংলার মানুষ একত্রে হতে পেরে সবাই খুশি। বহুদিন পরে আত্মীয়-স্বজনদের দেখা পেয়ে অনেকে আনন্দে অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। দেখা করতে পেরেছেন, কথা বলতে পেরেছেন কিন্তু একে অপরকে ছুঁয়ে দেখতে পারেননি ভৌগোলিক সীমারেখার বেড়াজালে বন্দি এই মানুষগুলো।

স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে বিজিবির কড়া পাহারা উপেক্ষা করে স্বজনদের একনজর দেখার জন্য কাঁটাতারের বেড়ার দিকে ছুটে আসে হাজার হাজার মানুষ। পরে মানুষের ঢল আটকাতে পারেনি বিজিবি। প্রতি বছর দীপাবলিতে বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়া খুলে দেয়ায় দুই দেশের মানুষ তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।

নীলফামারীর জলঢাকার চাপানী এলাকা থেকে আসা সুখবালা বলেন, আমার মেয়ে মিনতী বালা ভারতে থাকে। মেয়েকে একনজর দেখতে এলাম। আমার বয়স হয়েছে, কদিন যে বাঁচি! ভারতে যেতে অনেক টাকা খরচ। তাই মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে এখানে এসেছি।

বাউরার আনন্দমোহন জানান, এভাবে প্রতি বছর বিশেষ দিনগুলোয় মিলনমেলার আয়োজন করলে উভয় দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও মধুর হবে।

বাউরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দুলাল বসুনিয়া জানান, প্রতি বছর কালীপূজায় দুই দেশের মানুষ কাঁটাতারের বেড়ার পাশে জড়ো হয়ে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষৎ করেন। বিজিবি ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ অসামান্য এই মিলনমেলার সুযোগ দেন। এ সুযোগ যেন প্রতি বছর থাকে সেটাই প্রত্যাশা করি।

রবিউল হাসান/এমবিআর/জেআইএম