ন্যাশনাল লিগ্যাল এইড সার্ভিস অর্গানাইজেশনের (এনএলএএসও) পরিচালক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘ক্রসফায়ারে ভীতি সঞ্চার হয়, অপরাধ দমন হয় না। তাই ক্রসফায়ার কোনো সমাধান নয়। নাগরিক হিসেবে মানুষের আইনের সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে, এটি সংবিধান স্বীকৃত। যেকোনো অপরাধের বিচার আইনি প্রক্রিয়ায় করা উচিত।’
ন্যাশনাল লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস অর্গানাইজেশন এবং কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির যৌথ আয়োজনে সাংবাদিকদের কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, অপরাধ ও দুর্বৃত্তায়ন দমাতে শুধু আদালতের বিচারকাজের ওপর নির্ভর না হয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। এতে সমাধান না হলে অসহায় জনতাকে বিনা খরচে আইনি সহায়তা দিতে লিগ্যাল এইড সার্ভিস চালু করা হয়েছে। উচ্চ আদালত থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত এ সেবা কমিটি গঠন করে জনতাকে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের সফলতা সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিকতার ওপর নির্ভরশীল।
রোববার দুপুরে কক্সবাজারের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের শাহ সূজা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘কেস রেফারেল পদ্ধতির বাস্তবায়ন’ বিষয়ক কর্মশালায় আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, সমস্যা সমাধানে বাদি-বিবাদীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সদিচ্ছা থাকা দরকার। লিগ্যাল এইড সমাধানের পথ বাতলে দিতে পারে শুধু। এসব বিষয়ে সমাজের সব স্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার। এজন্য গণমাধ্যমকর্মী ও গণমাধ্যম মুখ্য ভূমিকা রাখতে পারে। দেশপ্রেম থাকলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ফলপ্রসূ করা সবার নৈতিক দায়িত্ব।
কর্মশালার শুরুতে জাতীয় লিগ্যাল এইডের কার্যক্রমের ওপর ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন ন্যাশনাল লিগ্যাল এইড সার্ভিস অর্গানাইজেশনের সহকারী পরিচালক সিনিয়র সহকারী জজ কাজী ইয়াসিন হাবীব।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মৈত্রী ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন- আইন মন্ত্রণালয়ের বিচার বিভাগের উপসচিব এস. মোহাম্মদ আলী, ন্যাশনাল লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস অর্গানাইজেশন প্রকল্পের উপপরিচালক (যুগ্ম জেলা জজ) আবিদা সুলতানা। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউএনডিপির প্রকল্প কর্মকর্তা মাসুদ করিম।
সায়ীদ আলমগীর/এএম/এমএস