পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী। কবে পেঁয়াজের দাম কমবে তার নিশ্চয়তা নেই। এ অবস্থায় চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাত জেগে পেঁয়াজের ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন কৃষকরা।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় সারারাত জেগে পেঁয়াজ ক্ষেত পাহারা দিতে দেখা গেছে কৃষকদের। পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়াসহ চুরির ভয়ে রাত জেগে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন তারা। এবার ধনবাড়ী উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে।
বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করলেও দামে তেমন একটা প্রভাব পড়েনি। তবে দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় চুরির ভয়ে রাত জেগে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে পুরোপুরি বাজারে আসবে নতুন পেঁয়াজ। নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসলেই দাম কমে যাবে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় আর চুরির ভয়ে অনেক কৃষক অপরিপক্ক পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, চুরির ভয়ে উপজেলার কয়ড়া গ্রামের কৃষক আজহারুল ইসলাম আজা, আ. হালিম, মো. কবির হোসেন, মুশুদ্দি দক্ষিণ পাড়া গ্রামের তোঁতা হাজী, হাদিরা গ্রামের আ. ছালাম পেঁয়াজ ক্ষেতের পাশে ছোট ঘর নির্মাণ করে সারারাত পাহারা দেন। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ক্ষেতের পেঁয়াজ তুলে রোদে শুকিয়ে নেয়ার পরপরই বাজারে বিক্রি করবেন তারা।
কৃষক আজহারুল ইসলাম আজা বলেন, এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে ৩০-৩২ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘায় ৩০ মণ থেকে ৩৫ মণ পর্যন্ত পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এবার আমার এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই চুরির ভয়ে রাগ জেগে ক্ষেত পাহারা দেই।
শুধু আজহারুল ইসলাম আজাই নন, এখানকার অধিকাংশ কৃষক অধিক মুনাফার আশায় পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এবার এখানের কৃষকদের পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক আ. ছালাম বলেন, আমার পাশের ক্ষেত থেকে এক কৃষকের অনেক পেঁয়াজ চুরি হয়ে গেছে। সেজন্য রাত জেগে ক্ষেত পাহারা দেই।
ধনবাড়ী উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ বলেন, এ অঞ্চলের জমি পেঁয়াজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এখানে পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। এ বছর এখানকার কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে লাভবান হবেন।
ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা আশা করছি আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বাজারে নামবে নতুন পেঁয়াজ। নতুন পেঁয়াজ পুরোপুরি বাজারে এলে দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্য চলে আসবে।
পেঁয়াজ পাহারার বিষয়ে তিনি বলেন, পেঁয়াজ রক্ষার্থে কৃষকরা ক্ষেত পাহারা দিতেই পারেন। এটা অস্বাভাবিক কিছু না। তবে যেভাবেই হোক কৃষককে পেঁয়াজ চুরি ঠেকাতে হবে।
আরিফ উর রহমান টগর/এএম/এমএস