রাজধানী ঢাকার সচিবালয় এলাকায় গাড়ির হর্ন মুক্ত করতে অভিযান শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবেশ অধিদফতরের আওতাধীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজিদ আহমেদের নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়।
সচিবালয় এলাকা গাড়ির হর্ন মুক্ত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মোবাইল কোর্ট বসানো হয়েছে। ওই এলাকা দিয়ে চলাচলের সময় কেউ হর্ন বাজালে সংশ্লিষ্ট যানবাহনকে চিহ্নিত করে আর্থিক জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।
দুপুর দেড়টায় এ অভিযান শুরু হলে ৩০ মিনিটের মধ্যে দুটি প্রাইভেটকার ও একটি মোটরসাইকেলে হর্ন বাজানোর অপরাধে জরিমানা করা হয়। এ সময় আরও বেশ কয়েকজন চালককে একই অপরাধে আটক করা হয়েছে। এসব চালকের কাছে বিভিন্ন পরিমাণে জরিমানা আদায় করতে দেখা গেছে। তবে আটক করা গাড়িগুলোর অধিকাংশই সরকারি বলে জানা গেছে।
অভিযানে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজিদ আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, সচিবালয় এলাকায় গাড়ির হর্ন না বাজানোর জন্য গত দুদিন সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে। মাইকিং করে ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, নানাভাবে প্রচারণা চালানোর পর এখনও যারা এ এলাকা গাড়ি নিয়ে চলাফেরার সময় হর্ন বাজাচ্ছেন তাদের আটক করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ থাকলেও বর্তমানে টোকেন মানি হিসেবে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। ৩০ মিনিটের মধ্যে দুটি প্রাইভেটকার ও একটি মোটরসাইকেল চালককে আটক করে জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা ৫০০ টাকা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন তাদের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত সর্বনিম্ন জরিমানা আদায়ের মাধ্যমে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে এ সময়ের পর হর্ন বাজানোর অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করা হবে। এছাড়া যারা জরিমানার অর্থ দিতে পারছেন না তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা দেয়া হচ্ছে।
হর্ন বাজানোর অপরাধে ২০০ টাকা জরিমানা দেয়া সরকারি গাড়িচালক আহমদ আলী জাগো নিউজকে বলেন, এ এলাকায় হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে বিষয়টা আমি জানি। হর্ন না দিলেও আমাকে আটক করে ২০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
তবে আটক করা কয়েকজন গাড়িচালক সচিবালয় এলাকায় হর্ন বাজানো নিষিদ্ধের বিষয়টি জানেন না বলে জানান।
এমএইচএম/আরএস/এমকেএইচ