লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে প্রায় দেড় কোটিরও বেশি (১ কোটি ৫৭ লাখ) টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২ দশমিক ৩ কিলোমিটার রাস্তার কার্পেটিং নিম্নমানের হওয়ায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ হাত দিয়েই তোলা যাচ্ছে রাস্তার কার্পেটিং।
এদিকে নিম্নমানের কাজ করায় সাধারণ জনগণের তোপের মুখে পড়েছেন ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টরা। আর কাজ বন্ধ করতে গিয়ে এলাকাবাসী ও ঠিকাদারের লোকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
জানা গেছে দীর্ঘদিন যাবত ওই এলাকায় কোনো পাকা রাস্তা ছিল না। কিন্তু লালমনিরহাট-২ আসনের এমপি নুরুজ্জমান আহমেদ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই সে চিত্র পাল্টে যাচ্ছে। গ্রামের সব কাঁচা রাস্তা পাকা হচ্ছে।
এদিকে নিম্নমানের সড়ক নির্মাণের বিষয়ে স্থানীয়রা সমাজ কল্যাণ মন্ত্রীসহ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের হাজরানিয়া থেকে বাবুরহাট বাজার পর্যন্ত ২ দশমিক ৩ কিলোমিটার (২৩০০ মিটার) রাস্তা পাকা করার জন্য ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। এ কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ইসলাম ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এরপর দীর্ঘদিন কেটে গেলেও তারা কাজ শুরু করেনি। পরে স্থানীয় ঠিকাদার নুর আমিনের কাছে কাজটি বিক্রি করে দেন। এরপর ওই ঠিকাদার চলতি বছর কাজ শুরু করেন। কিন্তু শুরু থেকেই তিনি নিম্নমানের ইট-খোয়া দিয়ে সাববেজ ও ডাব্লিউ বিএম শেষ করেছেন। এতে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ধাওয়া দেন তাকে।
এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাস্তা কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করেন ঠিকাদার নুর আমিনের লোকেরা। কিন্ত তারা ভালোভাবে পরিষ্কার না করেই রাতের আধাঁরে প্রাইমকোড দেয়া শুরু করলে স্থানীয়রা নিষেধ করেন। পরে শুক্রবার আবার রাস্তা কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করেন।
এদিকে শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে একইভাবে কাজ করার একপর্যায়ে এলাকাবাসী ও ঠিকাদারের লোকজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে নারীসহ বেশ কয়কজন আহত হন। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ঠিকাদার নিজেই পুলিশকে খবর দিয়ে উল্টো এলাকাবাসীকে মামলার হুমকি দেয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে বাংলাদেশি বিটুমিনের পরিবর্তে ইরানি বিটুমিন ব্যবহার করছেন। ফলে কাজ শেষ হবার আগেই রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। প্রথম থেকেই স্থানীয়রা কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের কেউ তাতে কান দেননি। এ অবস্থায় কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় মোমিনুর ইসলাম ও সামিউল ইসলাম জানান, ঠিকাদার নুর আমিনকে রাস্তার কাজ খারাপ হচ্ছে জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে, ‘বেশি ঝামেলা করলে চাঁদাবাজির মামলা দেয়ার হুমকি দেন।’
ঠিকাদার নুর আমিন বলেন, রাস্তার কাজে বাঁধা দেয়ায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তারা (স্থানীয়রা) কেন বাঁধা দিয়েছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এর কোনো জবাব দেননি।
রাস্তার কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) তারুকুজ্জামান তারেক বলেন, ‘পরিষ্কারের সময় গাড়ি চলাচল করে বলে ধুলাবালি থেকেই যায়। এটি কোনো বিষয় না, সাধারণ মানুষ এসব বিষয়ে কিছু বোঝে না।’
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান, কার্পেটিং উঠে যাওয়ার ঘটনায় জেলা সদর থেকে একটি টিম এসে সরেজমিনে দেখে গেছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে ঠিকাদারের ঝামলা হওয়ায় এমনটি ঘটেছে, রাস্তার কাজে কোনো ত্রুটি হয়নি। কিছু সাংবাদিক এটা না বুঝেই রিপোর্ট করছেন।
রবিউল হাসান/এমএমজেড/এমকেএইচ