দেশজুড়ে

ট্রেনের হুইসেলে স্টেশনে ছুটে আসেন যাত্রীরা

ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ রেলস্টেশনের কার্যক্রম ৬ বছর যাবত বন্ধ রয়েছে। এ কারণে হুইসেল শুনে যাত্রীরা ওঠেন লোকাল ট্রেনে। ফলে এলাকার শত শত যাত্রী প্রতিদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রেলে ভ্রমণ করছেন।

২০১৪ সাল থেকে ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় স্টেশন মাস্টারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের রুমে ঝুলছে তালা। এমন সময়ই পার্শ্ববর্তী মসজিদ থেকে বের হয়ে আসেন এ স্টেশনে দীর্ঘদিন যান্ত্রিক (সিগনাল) রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী মো. ফজলুল রহমান। তিনি জানান, ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি অবসর গ্রহণ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন চাকরি করায় স্টেশনটির প্রতি অনেক মায়া জন্মেছে। এ কারণে এলাকা ত্যাগ না করে স্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত রেখেছেন নিজেকে। থাকেন পাশের একটি মসজিদে, আর খাবারের ব্যবস্থা করেন কর্মজীবনের স্থানীয় এক সহকর্মী।

অচল এ স্টেশন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক সময় এখানে ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন। কিন্তু স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ায় এখন নেই কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী। ছয় বছর আগে এখানে শরিফুল ইসলাম নামে একজন স্টেশন মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে অবসরে যাবার পর থেকেই স্টেশনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। যদিও পরর্বতীতে মঈনুল ইসলাম নামে একজন স্টেশন মাস্টার হিসেবে নিয়োগ পেয়ে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু এ স্টেশনে কোনো কার্যক্রম না থাকায় কিছুদিন পর তাকে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া স্টেশনে বদলি করা হয়। সে থেকেই স্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছেন ফজলুর রহমান। মায়া-মমতায় পুরোনো কর্মচারী হিসেবে বিনা বেতনে স্টেশনের দেখভাল করছেন তিনি।

স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিনিয়ত ব্যবসায়ীক কাজে বিভিন্ন স্থানে মালামাল সরবরাহ করেন। দীর্ঘদিন এ স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এলাকার পণ্য সহজে ট্রেনে পরিবহন করা যাচ্ছে না। এতে কৃষকসহ ব্যবসায়ীরাও দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাকিব মিয়া বলেন, স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এখানে কোনো টিকিট বিক্রি হয় না। ট্রেনের হুইসেল শুনে যাত্রীরা লোকাল ট্রেনে ওঠানামা করেন।

এলাকার মুরুব্বি আব্দুল লতিফ মিয়া জানান, এখানে লোকাল ট্রেন ছাড়া আর কোনো ট্রেন থামে না। আর লোকাল ট্রেনগুলো মাত্র দু’মিনিট বিরতি দেয়। এতো স্বল্প সময়ে যাত্রীরা ট্রেনের বগিতে ওঠানামা করতে পারে না। এ কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নারী-শিশুসহ সবাইকে ট্রেনে উঠতে হয়।

এ অবস্থায় শিগগিরই রেলস্টেশনের কার্যক্রম পুনরায় চালুর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ভৈরব অফিসের ঊর্ধ্বতন উপ- সহকারী প্রকৌশলী (সিগনাল) সোলাইমান মিয়া জানান, কালিকাপ্রসাদ রেলস্টেশনের কার্যক্রম কয়েক বছর আগেই কর্তৃপক্ষ বন্ধ ঘোষণা করেছে। কারণ, সেখানে যে পরিমাণ টিকিট বিক্রি হয়, তাতে কর্মচারীদের বেতনও হয় না। শুধু কালিকাপ্রসাদ নয়, নরসিংদীর শ্রীনিধি ও কিশোরগঞ্জের যশোদলপুর রেলস্টেশনের কার্যক্রমও কর্তৃপক্ষ অনেক আগেই বন্ধ করেছে।

আসাদুজ্জামান ফারুক/এমএমজেড/পিআর