টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব-দক্ষিণ পাড়ের যমুনা নদী তীরবর্তী গড়িলা বাড়ি এলাকায় অসময়ে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের ফলে ইতোমধ্যে পাঁচটি পরিবারের পাকা ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে আরও বেশ কিছু ঘরবাড়ি। গত শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত থেকে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, ভাঙনে খালেক আকন্দ, নাসির শিকদার ও কয়েস শিকদারসহ বেশ কয়েকজনের বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে তারা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
বঙ্গবন্ধু সেতু রক্ষা বাঁধ এলাকায় ভাঙন রোধে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে গড়িলা বাড়ি পাথর ঘাট থেকে ৪৫০মিটার গাইড বাঁধ নির্মাণের জন্য রানা বিল্ডার্স অ্যান্ড শহীদ ব্রাদার্স (জেবি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কালিহাতীর গোহালিয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হয়রত আলী তালুকদার ও তার লোকজন এ বাঁধ নির্মাণে বাধা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বাঁধ নির্মাণের কাজটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গাইড বাঁধ নির্মাণ শেষ হলে এ ভাঙন হতো না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হজরত আলী তালুকদার বলেন, আমি গাইড বাঁধ নির্মাণে বাধা দেইনি। এছাড়াও আমি এখন নদী থেকে বালু উত্তোলন করি না।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ বিবিএ’র বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির পাভেল জানান, শুক্রবার রাত থেকে ভাঙন দেখা দেয়। রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার হয়। ওই অংশে গাইড বাঁধ নির্মাণের জন্য দুই মাস আগেই কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যনসহ প্রভাবশালী মহলের বাধার কারনে কাজ বন্ধ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্মাণ কাজে বাধা দেয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। গাইড বাঁধটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে ভাঙন রোধ করা যাবে।
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকার ৬ কিলোমিটারের মধ্যে যমুনা নদীতে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ হলেও একটি প্রভাবশালী মহল বালু উত্তোলন করে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- স্থানীয় প্রশাসন ও বিবিএ’র কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই এ বালু উত্তোলন করা হয়। বালু উত্তোলনের ফলে নদী তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের শতশত বাড়িঘর ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে অসংখ্য মানুষ।
আরিফ উর রহমান টগর/আরএআর/পিআর