দেশজুড়ে

মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে প্রতারক চক্রের এ কেমন প্রতারণা?

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের অভিনব কায়দায় প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে একটি প্রতারক চক্র। প্রতারণা চেষ্টার এ ঘটনা পুলিশকে জানানোর পরও তারা ওই প্রতারক চক্রকে চিহ্নিত করতে পারেনি বলে জানা গেছে।

প্রতারণার চেষ্টা করা হয়েছে এমনি এক মুক্তিযোদ্ধা হলেন, উপজেলার মহেড়া গ্রামের কাজী কাশেম। তিনি জানান, গত ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে প্রথমে ০১৮৯০১৫১২৭৩ নম্বর থেকে ইউএনও পরিচয়ে ফোন দিয়ে জানানো হয় আপনার নামে একটা সরকারি অনুদান আসছে। এর পরপরই ০১৮৯০৫০৯৫০৪ সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে বলা হয় ২৮ হাজার ৫শ টাকা বিকেল ৫টার আগে বিকাশ করুন এবং আপনার নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসা অনুদানের ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার চেকটি আগামীকাল দয়া করে নিয়ে যাবেন।

তিনি ঘটনাটি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাসকে জানালে তিনি বলেন বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। তাই আপনি ঘটনাটি ইউএনওকে অবহিত করতে পারেন। পরে তিনি ইউএনওকে জানালে ঘটনাটি প্রতারণার চেষ্টা বলে প্রমাণিত হয়। একই দিন একই কায়দায় ওই দুই নম্বর থেকে মহেড়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহিরুল ইসলামকে ফোন করা হয়। তবে অনুদানের টাকা এক লাখ ৭০ হাজার এবং এজন্য ফেরত যোগ্য ১৮ হাজার ৫শ টাকা বিকাশ করতে বলা হয়।

এছাড়া একই ইউনিয়নের স্বপ্ল মহেড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ময়নায়, আলাল, আদিবর রহমান হিলড়া গ্রামের আব্দুল রহমান একই গ্রামের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা নয়নের ছেলে ছোবহানের কাছেও একই নম্বর থেকে মোবাইল করে অনুদানের টাকা পেতে মোবাইলে ফেরতযোগ্য বিভিন্ন অংকের টাকা বিকাশ করতে বলা হয়।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গোড়াই লালবাড়ি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রুপচাঁদ মন্ডলের কাছে ০১৮৯০১৫১২৭৩ নম্বর থেকে ইউএনও পরিচয়ে এবং ০১৮৭৭৬২০০৯৭ সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক পরিচয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার অনুদান এসেছে এজন্য তাকে ২৯ হাজার ৫শ টাকা বিকাশ করতে বলা হয়।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারে সদস্যদের সঙ্গে অভিনব প্রতারণা চেষ্টার ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাস দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ প্রতারক চক্রকে চিহ্নিত করার জোর দাবি জানান।

মির্জাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সায়েদুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা গত সপ্তাহে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একজন অফিসারকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এস এম এরশাদ/এমএএস/পিআর