টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বৃষ্টি, শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে সরিষা আবাদের মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চলতি বছর সরিষার ফলন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র মতে, এ বছর উপজেলার প্রায় ৮ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়। এর মধ্যে উফশী জাতের প্রায় ৪ হাজার ও স্থানীয় জাতের ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়। এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে হঠাৎ গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। শুক্রবার গভীর রাত থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং শনিবার সন্ধ্যার পর কয়েক দফায় বৃষ্টি হয়। এতে ফুল থাকা স্থানীয় জাতের সরিষার গাছ মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। প্রায় ১০ দিন আগে মির্জাপুরে সপ্তাহব্যাপী শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা পড়ে। সূর্যেরও খুব একটা দেখা মেলেনি। ফলে খেতে সরিষার ফুলে মধু আহরণকারী মৌমাছি বা পতঙ্গ না আসায় পরাগায়ন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক স্থানে পাঁপড়িও পচে ঝরে যাচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার পোষ্টকামুরী, বাওয়ার কুমারজানী, বাইমহাটী, ভাওড়া, ঘুঘী, কোর্টবহুরিয়া, বুড়িহাটী, কুতুববাজার, আন্ধরাসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ক্ষেতের মধ্যে সরিষা গাছ নুইয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে বৃষ্টির কারণে ফুলও ঝরে গেছে। পোষ্টকামুরী গ্রামের কৃষক আবু আহমেদ জানান, শুক্র ও শনিবারের বৃষ্টির ফলে সরিষা ক্ষেতের অধিকাংশ সরিষা গাছই মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। এর আগে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘুন কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে মৌমাছি কিংবা পতঙ্গ ফুলে না বসায় পরাগায়নও হয়নি। এ অবস্থা চলতে থাকলে সরিষা আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। চাকলেশ্বর গ্রামের ফরিদ মিয়া বলেন, প্রায় সাড়ে ২ একর জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। বৃষ্টি আর কুয়াশার যে অবস্থা তাতে সরিষার ফলন হবে কিনা তা নিয়া শঙ্কায় আছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে উফশী জাতের সরিষার ক্ষতি হবে না। তবে স্থানীয় জাতের সরিষার পরাগায়ন ব্যাহত হবে। ঠিকমত সূর্যের আলো না পেলে ফলন কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
এসএম এরশাদ/এফএ/পিআর