ভারতে যাওয়ার জন্য বেনাপোল ইমিগ্রেশনের সিল জালিয়াতি চক্র শনাক্ত করেছে পুলিশ। এই চক্রের এক সদস্য ও পাসপোর্ট যাত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে পুলিশ। সোমবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন বেনাপোলের ভবেরবেড় স্টেশন এলাকার বাসিন্দা দালাল নজরুল ইসলাম ও পাসপোর্ট যাত্রী নরসিংদীর পূর্বাহরিপুর গ্রামের মমতাজ মিয়ার ছেলে জুনাইদ হোসাইন।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নরসিংদীর বাসিন্দা জুনাইদ হোসাইন গত বছরের ১৫ নভেম্বর ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন ভ্রমণকারী হিসেবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তার পাসপোর্ট অফলোড করে দেয়। এ ঘটনায় জিডি করা হয়। তার পাসপোর্টের অফলোড সিল প্রত্যাহার না হওয়ায় পুনরায় শনিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে যশোরের বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে আটক করা হয়।
আটক জুনাইদ হোসাইনের উদ্ধৃতি দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম আরও বলেন, জুনাইদ দীর্ঘদিন ধরে দালালের মাধ্যমে দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। গত নভেম্বর মাসে দুবাই যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে লিবিয়া যাওয়ার জন্য নরসিংদীর দালাল মো. কাওসার ও ঢাকার ফকিরাপুরের মো. সুমনের মাধ্যমে ভারতের ভিসা করেন। ১৭ জানুয়ারি দালাল কাওসারের মাধ্যমে ঢাকার ফকিরাপুলে মো. সুমন নামক এক দালালের কাছে যাস জুনাইদ। তাদের কথামতো সুমনকে ৩০ হাজার টাকা ও ৩০০ ডলার দেন। মো. সুমন তাকে গ্রীনলাইন পরিবহনের একটি বাসে উঠিয়ে দেন এবং বেনাপোলের দালাল নজরুল নামের এক ব্যক্তির ফোন নম্বরসহ ১৫ হাজার টাকা দেন। সুমন তার ফোন নাম্বার ও ছবি তুলে নজরুলের কাছে পাঠিয়ে দেন। বাস ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যে নজরুল ফোন দিয়ে জুনাইদকে বলেন বেনাপোল এসে তাকে ফোন দিতে।
১৮ জানুয়ারি সকালে বেনাপোলে বাস থেকে নেমে নজরুলকে ফোন দেন। নজরুল গিয়ে তাকে নিয়ে যান। এ সময় তার কাছ থেকে পাসপোর্ট ও ৫৫০ টাকা নিয়ে ট্যাক্স টোকেন করে দেন। এরপর তার কাছ থেকে আরও সাড়ে ১৪ হাজার টাকা নিয়ে কাউন্টারের ভেতরে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তাকে নিয়ে তার অফিসে যান।
পরবর্তীতে নজরুল ফোন করে ওসমান ও মারিয়া কামাল নামে দুজনকে ডাকেন। তারা পাসপোর্ট ও কাগজপত্র নিয়ে আবার ভেতরে যান। কিছুক্ষণ পর জুনাইদকে নিয়ে একজন কুলি দিয়ে ভেতরে পাঠান। ভারতে যাওয়ার সময় বহির্গমনের গেটে ধরা পড়েন। এ ঘটনায় বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা হয়েছে। জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান ও যশোর ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহমেদ।
মিলন রহমান/এএম/জেআইএম