লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় শাপলা খাতুন (২৩) নামে এক নারী একসঙ্গে তিনটি জমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তিন সন্তানের মধ্যে দুটি ছেলে ও একটি মেয়ে। সবাই সুস্থ। তবে তাদের মায়ের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে শাপলা খাতুনকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারছেন না তার স্বামী।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম হয় এ তিন শিশুর। শাপলা খাতুন উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের মধ্য গড্ডিমারি গ্রামের সাফিউল ইসলামের স্ত্রী।
একসঙ্গে তিন সন্তান জন্ম দেয়ার ঘটনায় উৎসুক মানুষ তাদের একনজর দেখার জন্য গ্রামের বাড়ি ভিড় করছেন। তাদের নাম রাখা হয়েছে ছেরাতুল জান্নাত, আব্দুল্লাহ ও রব্বানী।
এ খবর শুনে মঙ্গলবার দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল আমিন ও এসিল্যান্ড তাদের খোঁজ খবর নেন এবং কিছু সহযোগিতাও করেন।
জানা গেছে, উপজেলার মধ্য গড্ডিমারী গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের সাফিউল ইসলামের স্ত্রী শাপলা খাতুন এক সঙ্গে তিনটি শিশুর জন্ম দেন। সাফিউল পেশায় দিনমজুর। ধারদেনা করে স্ত্রী শাপলাকে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে করলে তিনটি জমজ সন্তান হয়।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আসাদুজ্জামান রুবেল বলেন, তিন সন্তানের শারীরিক অবস্থা ভালো হলেও মায়ের অবস্থা ভালো না। পরিবারটি খুবই গরিব। তিন সন্তানকে নিয়মিত খাবারসহ বাড়তি খাবার খাওয়াতে হবে। না হলে সন্তান তিনটিকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।
শাপলার স্বামী সাফিউল ইসলাম বলেন, এলাকার এক ব্যক্তির কাছে সুদের উপর ২০ হাজার টাকা নিয়ে স্ত্রীকে রংপুরে নিয়ে যাই। এখন আর চিকিৎসা করানোর টাকা নেই। আমি গরিব মানুষ। দিনমজুরি করে কোনো রকমে সংসার চালাই। কীভাবে সন্তানদের দিনবেলা খাবার দেব এ চিন্তায় অস্থির তিনি।
গড্ডিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বলেন, খবরটি পেয়েছি। ওই অসহায় পরিবারটিকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।
হাতীবান্ধার ইউএনও সামিউল আমিন বলেন, তিন জমজ শিশু সুস্থ আছে। মায়ের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।
রবিউল হাসান/এমএএস/এমকেএইচ