দেশজুড়ে

কারখানায় গিয়ে বন্ধের নোটিশ পেলেন পোশাক শ্রমিকরা

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র অনুরোধে রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে গাজীপুরের প্রায় সব পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। দুই দিন নানা দুর্ভোগ সহ্য করে গাজীপুরে আসার পর সকালে কারখানায় গিয়ে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধের নোটিশ পান পোশাক শ্রমিকরা। তবে রফতানি অর্ডার রয়েছে এবং পিপিই তৈরি করছে এমন কয়েকটি কারখানা চালু রয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া এলাকার পোশাক শ্রমিক কাইয়ুম হোসেন বলেন, চাকরি বাঁচাতে শনিবার (৪ এপ্রিল) জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনের স্বল্পতায় পাঁয়ে হেঁটে, অটোরিকশায়, ট্রাক ও পিকআপে করে নেত্রকোনা থেকে গাজীপুরে আসি। যাওয়ার সময় প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে নেত্রকোনা যাই। ঠিক আসার সময়ও দ্বিগুণের বেশি ভাড়া দিয়ে গাজীপুর আসি। সকালে কারখানায় গিয়ে দেখতে পাই ছুটির নোটিশ।

অপর শ্রমিক হোসনে আরা বলেন, বাড়িতে অসুস্থ বাবাকে রেখে চাকরি বাঁচাতে চলে এসেছি। এছাড়া সামনে বেতন দেয়ার সময় হয়েছে। এ সময়ে কারখানায় হাজির না হলে বেতন বন্ধ থাকবে। এমনিতেই নানা অযুহাতে কারখানা থেকে শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়। তাই নানা ঝক্কি ঝামেলা সহ্য করে কর্মস্থলে ছুটে এসেছি।

এদিকে ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিন বন্ধ থাকার পর রোববার থেকে পোশাক কারখানাগুলো খোলার কথা ছিল। কিন্তু বিজিএমইএ কারখানা বন্ধ রাখার অনুরোধ করায় ১১ এপ্রিল পর্যন্ত গাজীপুরের প্রায় সব পোশাক কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। কারখানা বন্ধের ছুটি পেয়ে যেসব শ্রমিক বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন তার প্রায় ৮০ ভাগ শ্রমিক শুক্রবার ও শনিবার চলে এসেছেন।

গাজীপুর মহানগরীর আলেমা টেক্সটাইল লিমিটেডের প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে বিজিএমইএ’র সভাপতি রুবানা হক পোশাক কারখানা মালিকদের ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানোর পর কারখানা কর্তৃপক্ষ রাতেই কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। রোববার ভোরে কারখানার গেটে ছুটির নোটিশ টানানো হয়।

এদিকে ছুটির মধ্যে শ্রমিকদের নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করার অনুরোধ জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

আমিনুল ইসলাম/আরএআর/এমএস