দেশজুড়ে

ভৈরবে হাজার হাজার মণ ধান পড়ে আছে নদীর পাড়ে

বন্দরনগরী ভৈরব বাজারে প্রতিদিন ট্রলারযোগে হাওর এলাকা থেকে নতুন ধান আমদানি শুরু হলেও ক্রেতার অভাবে বিক্রি হচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের গুদামে ধারণক্ষমতা না থাকায় আমদানিকৃত এসব ধান ভৈরব বাজার নদীর পাড়ে স্তুপ করে রাখা হয়েছে।

প্রতিবছর হাওরে নতুন ধান কাটা শুরু হলেই বৈশাখ মাসের শুরুতেই কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার উৎপাদিত ধান কৃষক ও পাইকাররা ভৈরব বাজারে নিয়ে আসে।

ভৈরবের ধানের আড়ৎদার এম এ মান্নান, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন ভৈরব বাজারকে লকডাউন করেছে। যদিও জরুরি দোকানপাটসহ কৃষিজাত পণ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে বলা হয়েছে।

ভৈরবে আমদানিকৃত ধান আশুগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম, চাঁদপুর এলাকার ক্রেতারা কিনে নিয়ে যায়। আশেপাশের এলাকার রাইস মিল মালিকরাও ধান কিনতে আসে। কিন্ত বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ক্রেতা ভৈরবে আসতে পারছে না। সড়ক, রেল ও নৌপথে কোনো যানবাহন চলছে না। এ কারণে আমদানিকৃত ধান নিয়ে বিপদে আছি।

ধান ব্যবসায়ী আলী হোসেন জানান, হাওরের কৃষকরা এখন ধান কাটার পর ভালোভাবে না শুকিয়ে আধাকাঁচা ধান বিক্রির জন্য ভৈরব বাজারে পাঠাচ্ছে। ক্রেতা না থাকায় আমদানিকৃত কাঁচা ধান নিয়ে বিপদে আছি।

ধানের আড়ৎদার কালীপদ সাহা জানান, প্রচুর ধান হাওর থেকে আসছে। গুদামে জায়গা নেই, তাই নদীরপাড়ে স্তুপ করে রেখেছি। কিছু কিছু ধান আশুগঞ্জে বিক্রি করেছি। কিন্ত ব্যাংক বন্ধ থাকায় লেনদেন করতে পারছি না। ব্যবসায়ী মাহবুব জানান, বর্তমান লকডাউনে দিনে তিনঘণ্টা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে বেচাকেনা সম্ভব হচ্ছে না।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা থেকে ভৈরবে ধান নিয়ে আসা কৃষক জমির হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি একজন ক্ষুদ্র কৃষক। ধারদেনা করে ধান চাষ করেছি। ধান কাটার পর গোলায় তোলার আগেই অর্ধেক ধান বিক্রি করতে হয় দেনা পরিশোধ করতে। ১০০ মণ ধান নিয়ে গতকাল ভৈরবে এসেছি কিন্ত এখনও বিক্রি না হওয়াই হতাশায় ভুগছি।

আশুগঞ্জের রাইস মিল মালিক জিন্না খন্দকার জানান, ধানের অভাবে গত তিনমাস চাতাল বন্ধ ছিল। এখন চাতালগুলো চালু করলেও করোনা পরিস্থিতিতে যানবাহন বন্ধ থাকায় ভৈরব থেকে ধান আনা সম্ভব হচ্ছে না।

ভৈরব চেম্বারের সভাপতি আলহাজ মো. হুমায়ূন কবির জানান, বৈশাখ থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত হাওরের কয়েকটি জেলার লাখ লাখ মণ ধান প্রতিবছর ভৈরবে আমদানি হয়। আপাত পরিবহন বন্ধ থাকায় ক্রেতারা ভৈরবে আসতে পারছে না। ফলে আমদানিকৃত ধান অবিক্রিত রয়েছে। ধান নিয়ে ভৈরব বাজারের ব্যবসায়ীরা এখন বিপাকে, একথা তিনি স্বীকার করেন।

ভৈরব উপজেলা কৃষি অফিসার আলম শরীফ খাঁন জানান, কৃষি পণ্যের দোকান খোলা থাকার কথা। তবে পরিবরহন বন্ধের কারণে হয়তো ক্রেতারা ভৈরবে আসতে পারছে না। দেশের এ দুর্যোগ মুহূর্তে সবারই ক্ষতি হচ্ছে। হয়তো দ্রুত বিপদ কেটে যাবে।

আসাদুজ্জামান ফারুক/এমএএস/জেআইএম