সুপার সাইক্লোন আম্ফানের প্রভাবে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে উপকূলীয় সাতক্ষীরা অঞ্চলে। এরই মধ্যে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে কাজ করছে পুলিশ। তবে বৃষ্টির কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সব বাধা উপেক্ষা করেই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।
আবহাওয়া অধিদফতর মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত আম্ফানের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, কিছুটা শক্তি কমেছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের। বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৫ কিলোমিটার কমেছে। তবে এখনও এটি সুপার সাইক্লোন রূপেই রয়েছে। সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আম্ফান মোকাবিলার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসায় বুধবার (২০ মে) সকাল ৬টায় মহাবিপদ সংকেত জারি করা হবে। আজ (মঙ্গলবার) রাতের মধ্যেই উপকূলীয় এলাকায় ঝুঁকিতে থাকা ২০ থেকে ২২ লাখ লোককে আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হবে।
সুপার সাইক্লোন আম্ফানের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তৎপর সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় উদ্ধারকাজে বিঘ্ন হচ্ছে। তবুও মানুষকে নিরাপদে রাখতে পুলিশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধার কাজ শেষ হওয়া না পর্যন্ত পুলিশ মাঠে থাকবে। উপকূলীয় এলাকার একটি মানুষকেও অনিরাপদ রেখে পুলিশ মাঠ থেকে উঠে আসবে না।
তিনি বলেন, মানুষকে নিরাপদে নিয়ে আসা, প্রচার-প্রচারণাসহ সব কার্যক্রমেই পুলিশ কাজ করছে। সবাই একত্রিত হয়েই ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলা করতে হবে।
এদিকে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকার ১৮ হাজার ৯০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বাকিদেরও সরিয়ে নেয়ার কাজ চলমান।
আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, ঘূর্ণিঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ১০ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুপার সাইক্লোন আম্ফান উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে অবস্থান করছে।
মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
আকরামুল ইসলাম/এমএআর/পিআর