দেশজুড়ে

একজন থেকে চারজনে ছড়িয়েছে করোনা

ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় মা ও ছেলেসহ আরও পাঁচজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ফরিদপুর জেলায় করোনাভাইরাস শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১২৩ জনে। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের করোনা ল্যাব থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ফরিদপুরে নতুন করে যে পাঁচজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ এবং একজন নারী। এদের মধ্যে ভাঙ্গার চারজন ও ফরিদপুর সদরের একজন।

ভাঙ্গা পৌরসভার বাসিন্দা এক মাছ ব্যবসায়ীর স্ত্রী (৪০) ও ছেলে (২৮) আক্রান্ত হয়েছেন। তারা যে মহল্লায় থাকেন সেই মহল্লায় এর আগে এক দম্পতি আক্রান্ত হয়েছেন। তারাও মাছ ব্যবসায়ী। মূলত একজন থেকে চারজনে ছড়িয়েছে করোনা। এই মহল্লায় বিভিন্ন পরিবারের মোট ৪০ জন সদস্য বসবাস করেন। ভাঙ্গায় যে চারজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তারা সবাই এই মহল্লার বাসিন্দা। শনিবার ওই মহল্লায় অন্য যে দুইজন আক্রান্ত হয়েছেন তাদের একজন মাছ ব্যবসায়ী (৪০) এবং অপরজন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী (১৭)।

ওই মহল্লার বাসিন্দা ভাঙ্গা পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাছ ব্যবসায়ী জগদীশ মালো বলেন, গত ২০ মে মহল্লার এক দম্পতির করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ওই দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে মহল্লার ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করার জন্য বলা হয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) মহল্লার মাত্র ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে দুইজন শনাক্ত হয়। সবার নমুনা সংগ্রহ করা হলে শনাক্তের বিষয়ে একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহসীন উদ্দীন ফকির বলেন, নমুনা সংগ্রহের সরঞ্জামের ঘাটতি থাকায় ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। পরে সবার নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

ফরিদপুর সদরে যে ব্যক্তির (৬৯) করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তিনি ফরিদপুর শহরের বাসিন্দা। তিনি একজন ব্যবসায়ী।

যে পাঁচজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তার মধ্যে ১০ থেকে ২০ বছরের বয়সী রয়েছেন একজন, ২১ জন এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে আছেন একজন।

ফরিদপুরের করোনা শনাক্তকরণ ল্যাব সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২২ মে) ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জের মোট ৯০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ফরিদপুরের ৪৬ এবং গোপালগঞ্জের ৪৪টি। মোট পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ১১ জন। এর মধ্যে ফরিদপুরে একজন পুরনো শনাক্তসহ ছয়জন এবং গোপালগঞ্জের পাঁচজন।

ফরিদপুরে মোট শনাক্ত ১২৩ জনের মধ্যে বোয়ালমারীতে ৩১, ফরিদপুর সদরে ২৮, নগরকান্দায় ২১ , আলফাডাঙ্গায় ১৭, ভাঙ্গায় ১৩, চরভদ্রাসনে পাঁচ, সদরপুরে চার, মধুখালীতে তিন এবং সালথায় একজন।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান বলেন, ফরিদপুর শহর ও ভাঙ্গা উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে যে পাঁচজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তাদের প্রত্যেকের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। আক্রান্ত সবার শারীরিক অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে। শনাক্তদের বাড়িতে রেখে কিংবা শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ফরিদপুরের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হবে।

বি কে সিকদার সজল/এএম/এমকেএইচ