দেশজুড়ে

প্রতিবন্ধী সেলিনার জন্য ভাতার ব্যবস্থা করলেন ইউএনও

জীবনের ৪৫টি বছর কেটে গেছে সেলিনা খাতুনের। জীবন স্বাভাবিক হলে হয়তো সংসার থাকতো। থাকতো সন্তানাদি। কিন্তু কিছুই হয়নি তার। কারণ তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী। ভাইয়ের আশ্রয়ে থেকে বেঁচে থাকা পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গাঙ্গহাটি কারিগরপাড়ার মানসিক প্রতিবন্ধী নারী সেলিনার জীবনের গল্প।

বোনকে একটু ভালো রাখতে তার ভাই আলী আজম এক দশক ধরে এর-ওর কাছে কাকুতি-মিনতি করেছেন সরকারি সুবিধার (ভাতা) জন্য। কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) সেলিনার কথা জানতে পারেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম জামাল আহমেদ। পরদিনই তাকে (১৭ জুন) নিজ অফিসে ডেকে নেন। তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করেন।

সেলিনার ভাই সাঁথিয়া উপজেলার গাঙ্গহাটি কারিগরপাড়ার আলী আজম বলেন, শুনেছিলাম পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এমএম জামাল আহমেদের কক্ষে কারও প্রবেশ করতে অনুমতি লাগে না । ফোন করে সমস্যার কথা বলা যায় সব সময়। তাই তাকে একজনের মাধ্যমে জানিয়েছিলাম, আমার বোনের এমন অসহায়ত্বের কথা। এ কথা ইউএনও স্যার শোনার পরদিনই (বুধবার) আমাদের তার অফিসে দেখা করতে বলেন। তার অফিসে ডেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পূরণ করিয়ে সংশ্লিষ্টদের বলে প্রতিবন্ধী কার্ডের ব্যবস্থা করেন।

আলী আজম বলেন, ‘আমি এক দশক ধরে বহু জনকে, জনপ্রতিনিধিকে বলেছি কিছু একটা করার জন্য। কিন্তু কেউ কোনো ব্যবস্থা করে দেয়নি।’

তিনি জানান, তারা ১০ ভাই-বোন। বাবা মৃত আব্দুল গফুর মাত্র ২৪ শতাংশ জমি রেখে যান। তাদের দুই বোন মানসিক প্রতিবন্ধী। বাবা মারা যান ওদের বয়স যখন ৭-৮ বছর তখন। দরিদ্র পরিবারে অনেক কষ্ট করে বেড়ে ওঠে তার দুই বোন।

আলী আজম বলেন, আমাদের যত কষ্টই হোক না কেন তাদের দিয়ে অন্তত ভিক্ষাবৃত্তি করাইনি। নিজেরা বাড়তি শ্রম দিয়ে হলেও তাদের অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করেছি।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আয়ুব আলী খান বলেন, মানসিক প্রতিবন্ধী সেলিনার কথা শুনে ইউএনও তাকে অফিসে আনার ব্যবস্থা করেন। তাৎক্ষণিক আমাদেরও জানান। তাকে তালিকাভুক্ত করে কার্ড দেয়ার প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম জামাল আহমেদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কর্মসূচি মোতাবেক কোনো প্রতিবন্ধী সহায়তা থেকে বাদ যাবে না। কিন্তু যে কোনো কারণেই হোক সেলিনা খাতুনের হয়ত এর আগে ভোগান্তি হয়েছে। আমি জানার পরদিনই তাকে তার ভাইসহ আমার অফিসে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদনের জন্য তাকে উপজেলা সদরে আসতে বলেছি। তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা সমাধান করতে পেরে আমারও ভালো লাগছে। প্রতিবন্ধী সেলিনা আজীবন এ ভাতা পাবেন।

আরএআর/জেআইএম