দেশজুড়ে

হাজারি বরশিতে উঠে এলো প্রকৌশলীর মরদেহ

পদ্মা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকৌশলী শাকিল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর প্রায় ৬ ঘণ্টা চেষ্টা করে জেলেদের নিক্ষেপ করা হাজারি বরশিতে তার লাশটি উঠে আসে।

ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের চররূপপুর ফটু মার্কেট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে বুধবার দুপুরে কয়েকজনের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে শাকিল পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়।

শাকিল ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী নতুন রূপপুর গ্রামের মৃত শাজাহানের ছেলে। তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তবে পরিবারের দাবি, যুবলীগ নেতা শাজাহান হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষ থেকে শাকিলকে ডেকে নিয়ে সুকৌশলে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রশাসন বলছে পূর্বপরিকল্পনা মতে শাকিলকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে নাকি এটা দুর্ঘটনা তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী জেলেরা জানান, ঘটনার সময় শাকিলসহ ৭-৮ জন নদীতে গোসল করছিল। হঠাৎ শাকিল ডুবে যায়। দুজন বাদে অন্যরা সবাই চলে যায়। গোসল করার সময় অন্যরা শাকিলকে ডুবিয়ে মেরেছে না এটা দুর্ঘটনা তা তারা জানেন না।

শাকিলের চাচা আবু হানিফ জানান, দুপুর আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে শাকিল বের হয়। এরপর পানিতে ডুবে যাওয়ার খবর পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে তার সঙ্গে নদীতে গোসল করতে যাওয়া স্বদেশ ও কাওছারকে জনগণ আটক করে।

হানিফ অভিযোগ করে বলেন, তার ভাই শাজাহানকে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী মেরেছে। সেই মামলার বাদী ছিল শাকিল। হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ কয়েকজন এখন জেল হাজতে রয়েছে। শাকিলকে ডেকে এনে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করার পরিকল্পনাকারীদের কেউ কেউ সম্প্রতি জেল হাজত থেকে বের হয়ে এসেছে। তারাই শাজাহান হত্যা মামলার বাদীকে হত্যার জন্য জেলখানায় বসেই পরিকল্পনা করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় শাকিলকে ডেকে এনে পদ্মা নদীর পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) বিকাশ চক্রবর্তি জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহত শাকিলের সঙ্গে গোসল করতে যাওয়া ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির স্যারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে শাকিলকে সুকৌশলে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। লাশ মর্গে পাঠানো হবে। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রেজাউল করিম ফেরদৌস/এমএএস/এমএস