নাটোরের লালপুরে বাবা আইয়ুব আলীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য অপহরণ নাটক সাজিয়েছেন হিমেল নামে এক ছেলে। দুইদিন অপহরণের নাটকের পর এক ড্রাইভারের সহায়তায় নিজের হাত-পা বেঁধে নিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকেন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু বিধি বাম। সোমবার (২০ জুলাই) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হিমেলের নাটকের বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে লালপুর উপজেলার আহম্মেদপুরের মহাদেবপাড়া এলাকায়। হিমেল ওই গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে।
হিমেলের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লালপুর উপজেলার আহম্মেদপুরের মহাদেবপাড়ার আইযুব আলীর ছেলে হিমেল। বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে গত ১৬ জুলাই ভোরে তিনি কুইজিপুকুর মোড়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে বাড়িতে না ফিরে ১৭ জুলাই সন্ধ্যার পর বাবা আইযুব আলীর মোবাইলে নিজের মোবাইল থেকে কণ্ঠ পরিবর্তন করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
এদিকে ছেলে বাড়ি না ফেরায় আইযুব আলী থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ হিমেলকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। হিমেল ৫০০ টাকায় নাটোরের একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। সেখানে একটি ছেলেকে দিয়ে নিজের হাত পা দড়ি দিযে বেঁধে মোবাইলে ছবি তুলে নেন। এ ছবি বাড়িতে ও অত্মীয়দের পাঠিয়ে আবার বাবার ফোনে ফোন দিয়ে টাকা চান।
১৮ জুলাই ফোন দিয়ে বাবাকে বলেন- আপনার ছেলেকে নান্টুর আম বাগানে পাবেন রাতে। এ কথা বলে হিমেল নাটোর থেকে দাশুরিয়াগামী একটি হলুদ পিকআপ ৭০০ টাকা ভাড়া মিটিয়ে রাত ১১টার দিকে চাঁদপুর এলাকায় পৌঁছেই পিকআপের ড্রাইভারকে ভয় দেখিয়ে নিজের হাত-পা বেঁধে নিয়ে রাস্তার পাশে অচেতন হয়ে পড়ে থাকার অভিনয় করেন। আত্মীয়-স্বজন হিমেলকে প্রথমে রাস্তা থেকে তুলে এনে গোপালপুর মুক্তার জেনারেল হাসপাতাল ও পরে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সোমবার লালপুর থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হিমেলের নাটকের বিষয়টি বের হয়ে আসে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লালপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম রেজা বলেন, বাবার কাছ থেকে টাকা নেয়ার জন্যই হিমেল এই অপহরণ নাটক সাজায়।
রেজাইউল করিম রেজা/আরএআর/এমএস