ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের গেটগুলো দেয়ায় আবারও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তিস্তায় দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর, সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হয়। অপরদিকে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারাজ রক্ষার্থে ৪৪টি গেট খুলে দিয়ে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
জানা গেছে, গত ৭ দিন আগে দ্বিতীয় দফায় বন্যার পর তৃতীয় দফায় আবারও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। তিস্তার চর এলাকাগুলোতে লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় দফা বন্যার এক সপ্তাহ পর জেলায় তৃতীয় দফায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে নতুন করে অন্তত ৫০ হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এর আগে ৩০ বছরের রেকর্ড ভেঙে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তখন প্রায় এক লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবার যে হারে পানি বৃদ্ধি হচ্ছে তাতে তৃতীয় দফার বন্যায় নতুন করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান জানান, পানি নেমে যাওয়ার সাত দিন যেতে না যেতেই মঙ্গলবার সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী অববাহিকার পরিবারগুলো ফের পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, তিস্তার বন্যায় পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য আবারও ত্রাণ সহযোগিতা দেয়া হবে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি সকাল থেকে বৃদ্ধি পাওয়ায় চর ও উপকূল এলাকার মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি আরও বাড়তে পারে।
রবিউল হাসান/আরএআর/এমকেএইচ