দেশজুড়ে

বরগুনায় যুবলীগ নেতার মুক্তির দাবি

বরগুনার আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা পারভীনের দায়ের করা মামলায় কারাগারে থাকা জেলা পরিষদ সদস্য ও আমতলী পৌর যুবলীগ সভাপতি আইনজীবী আরিফুল হাসান আরিফের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে ইউএনও মনিরা পারভীনকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে বরগুনার টাউনহল এলাকার অগ্নিঝড়া ৭১-এর পাদদেশে ‌‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ বরগুনা জেলা কমিটির আহ্বায়ক মো. মনিরুল ইসলাম লিটনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু, জেলা যুবলীগ সভাপতি কামরুল আহসান মহারাজ, সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবু, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান মারুফ মৃধা।

সমাবেশ থেকে জেলা পরিষদ সদস্য ও পৌর যুবলীগ সভাপতি আরিফুল হাসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ইউএনও মনিরা পারভীন ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ‘বরগুনার আমতলীসহ ইতোপূর্বের কর্মস্থলেও একই আচরণ করেছেন ইউএনও মনিরা।’ তাই অবিলম্বে ইউএনও মনিরা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তসহ তাকে প্রত্যাহার করা না হলে আগামী বুধবার আমতলী শহীদ মিনার চত্বরে অনশন কর্মসূচি পালিত হবে।

শনিবার বিকেলে আমতলী লঞ্চঘাট এলাকা থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীনের নির্দেশে আইনজীবী আরিফুল হাসান আরিফকে আটক করে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আরিফকে আটকের নির্দেশ দেয়ার কারণ জানাননি ইউএনও মনিরা পারভীন। আটকের পরদিন আরিফের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, লাঞ্ছনা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আমতলী থানায় একটি মামলা করেন ইউএনও। ওই মামলায় গত রোববার রাত থেকে কারাগারে রয়েছেন আরিফ।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী আরিফ ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, শনিবার আমতলী লঞ্চঘাট এলাকায় কয়েকজন পুলিশ নিয়ে অভিযান চালান ইউএনও মনিরা পারভীন। এ সময় অ্যাডভোকেট আরিফ ইউএনওকে দেখে সালাম দিতেই পূর্ব শত্রুতার জেরে ইউএনও ক্ষিপ্ত হয়ে আরিফকে গালাগাল শুরু করেন। আরিফ এর প্রতিবাদ করলে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় ইউএনও মনিরা পারভীন আরিফকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। আরিফের আটকের পর তার মুক্তির দাবিতে পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আমতলী পৌর যুবলীগ।

সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এএম/পিআর