প্রার্থীদের গণসংযোগ আর প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠছে আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন পরিছন্ন আধুনিক পৌরসভা গড়ার। প্রত্যেকেই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি। আর ভোটাররা বলছেন, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন তারা
শহরের রাস্তাঘাট, অলিগলি ও পাড়া-মহল্লা এখন মিছিল আর স্লোগানমুখর। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বসতবাড়িতেও এখন আলোচনার বিষয় শুধু নির্বাচন। প্রার্থীরা ভোট চেয়ে চষে বেড়াচ্ছেন তাদের নির্বাচনী এলাকা।
নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোনের মনোনীত প্রার্থী অংশ নিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েল ব্যাপক গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন। তিনি জানান, মেয়র নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাঁদপুর পৌরসভার সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি চাঁদপুর পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং যানজট নিরসনসহ মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে আধুনিক পৌরসভা গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন।
অন্যদিকে সমানভাবে প্রতিটি ঘরে ঘরে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মো. আক্তার হোসেন মাঝি। যদিও তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় তার ব্যানার ও পোস্টার ছিড়ে ফেলেছে। এছাড়া তিনি ইভিএম ভোটিং পদ্ধতির ত্রুটি নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন। যদিও প্রত্যেক ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রধানের আহ্বান জানান তিনি।
একইভাবে নিজ নিজ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। সবাই নিজ নিজ প্রতীকে ভোট দিতে ভোটারদের কাছে অনুরোধ জানান।
পিছিয়ে নেই মহিলা প্রার্থীরা। তারাও মা-বোনদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ফরিদা ইলিয়াস বলেন, আমি মানুষের জন্য সবসময় কাজ করি। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াই। আশা করছি, ভোটাররা আমাকে বঞ্চিত করবেন না।
গত ২৯ মার্চ চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সফিকুর রহমান ভূঁইয়ার মৃত্যুতে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর করোনার কারণে কালক্ষেপণ হলেও ১০ নভেম্বর হতে যাচ্ছে চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন। এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় ১৫ বছর পর চাঁদপুর পৌরবাসী পাচ্ছেন নতুন অভিভাবক।
আগামী ১০ অক্টোবর, শনিবার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চাঁদপুর পৌরসভায় ভোট গ্রহণ হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে তিনজন, কাউন্সিলর পদে ৫০ জন এবং মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
চাঁদপুর পৌরসভার ভোটার এক লাখ ১৭ হাজার ৮৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৯ হাজার ২৭ জন এবং মহিলা ৫৮ হাজার ৮৫৯ জন। ১৫ ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্র ৫২টি।
এমএআর/পিআর