বার্গার ও পিৎজা খেয়ে ২৫ জন অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় কুষ্টিয়া শহরের বনফুড বেকারি ও রেস্তোরাঁকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এর আগে এ ঘটনায় রেস্তোরাঁ মালিক শাকিল আহম্মেদ জালালসহ প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মচারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার ওই রেস্তোরাঁর পিৎজা-বার্গার খেয়ে প্রায় ২৫ জন অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ আটজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কুষ্টিয়া শহরের বাবর আলী গেটের বনফুড বেকারি ও রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে অসুস্থতার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় শনিবার রাতে কুষ্টিয়া মডেল থানার এসআই ফিরোজ বাদী হয়ে নিরাপদ খাদ্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩ মোতাবেক মামলা করেন। ওই মামলায় শনিবার রাতে রেস্তোরাঁ মালিক শাকিল আহম্মেদ জালালসহ প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মচারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এদিকে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণ উপাদান দিয়ে খাবার প্রস্তুত, খাবার অনুপযোগী রঙ ব্যবহার এবং অনুমোদনবিহীন কারখানায় খাবার তৈরির অপরাধে সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিফাত উদ্দিন।
এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক বনফুড বেকারি ও রেস্তোরাঁকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৫৩, ৫২, ৪৮ ধারাসহ অন্যান্য ধারায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কুষ্টিয়া অফিসের সহকারী পরিচালক তানিম রাকিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্যানেটারি পরিদর্শক ও কুষ্টিয়া পুলিশ বিভাগের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
বনফুড বেকারি ও রেস্তোরাঁকে এসব বিষয়ে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেই সঙ্গে মেয়াদবিহীন ঘি, ডালডা ও মোরব্বা ধ্বংস করা হয়। স্যানিটারি ইন্সপেক্টরকে নিয়মিত পরিদর্শনের আদেশ দেয়া হয়।
শুক্রবার বনফুড বেকারি ও রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে অন্তত ২৫ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থদের সবার পেটে ব্যথা ও বমির সঙ্গে পাতলা পায়খানা শুরু হয়। এদের মধ্যে আটজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা তাপস কুমার সরকার বলেছিলেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়।
আল-মামুন সাগর/এএম/জেআইএম