দেশজুড়ে

খোলা আকাশের নিচে ৩৬ পরিবারের মানবেতর জীবন

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩৬ পরিবার সবকিছু হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। কাঁথা বালিশ থেকে শুরু করে পরনের কাপড়সহ সব পুড়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। স্ত্রী-সন্তান ও শিশুদের নিয়ে কোথায় দাঁড়াবে ক্ষতিগ্রস্তরা তা নিয়ে হতাশায় ভুগছেন।

শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে এ হতাশার কথা জানা গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩৬ ঘর পুড়ে ছাই হওয়া পরিবারের খোঁজখবর নিতে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে যান নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদা বারিক। তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর এবং তাদের খাবারের ব্যবস্থার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এম সাইফউল্লাহ বাদলকে অনুরোধ করেন। পরে চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা করেন। ইউএনও নাহিদা বারিক আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি অনুদান দেয়ার আশ্বাস দিয়ে তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত তৈয়ব আলী জানান, মেয়েসহ পরিবারের তিন সদস্য গার্মেন্টে চাকরি করে জীবিকা নির্বারহ করি। বৃহস্পতিবার আগুনের সময় জীবন বাঁচাতে ঘর থেকে বের হয়ে যাই। ঘর থেকে একটি সুতাও নিতে পারিনি। জামা কাপড় থেকে ফ্রিজ, টিভিসহ সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মেয়েদের বেতনের জমানো ২২ হাজার টাকাও পুড়ে গেছে। সব হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছি। এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোথায় দাঁড়াবো বুঝতে পারছি না।

শফিকুল ইসলাম জানান, স্ত্রী সন্তান নিয়ে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ হৈ চৈ শুনে ঘর বের হয়ে দেখি আগুন লেগেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনো রকম ঘর থেকে বের হয়ে এসেছি। পেছনে তাকিয়ে দেখি পুরো বাড়ির সব ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার ও টাকা পয়সা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সব কিছু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টায় ফতুল্লার উত্তর নরসিংপুর-মুসলিমনগর এলাকায় গিয়াস উদ্দিনের ভাড়াটিয়া বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়। অগ্নিকাণ্ডে ৩৫-৩৬টি টিনের বসত ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সংবাদে নারায়ণগঞ্জ ও বিসিক ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তার আগেই ৩৫-৩৬টি ঘরসহ আসবাবপত্র পুড়ে যায়।

শাহাদাত হোসেন/এএইচ/জেআইএম