দেশজুড়ে

চাঁদপুরে আ.লীগের দুগ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, পুলিশের ফাঁকা গুলি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুগ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ সময় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, টাওয়ার ও একটি ব্যাংকসহ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে।

মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত হাজীগঞ্জ বাজারের বিশ্বরোডে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ও জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশনায় হাজীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠান শুরু করতে বিশ্বরোডে মঞ্চ তৈরি করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলে নেতাকর্মীদের আগমনের আগে দুপুর দেড়টার দিকে হাজীগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্বরোডের সভামঞ্চ ভাঙচুর করে সড়কে অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় সড়কের কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ও চাঁদপুর ডিবি পুলিশ হামলাকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে।

খবর পেয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ হেলাল উদ্দিন মিয়াজী, সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. মাঈনুদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম ফারুক মুরাদ, পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক হায়দার পারভেজ সুজন ও পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শুকুর আলম শুভসহ নেতাকর্মীরা সভাস্থলে এগিয়ে এসে প্রতিপক্ষ লোকদের পাল্টা ধাওয়া করেন। পুলিশ উভয় পক্ষের লোকদের দুদিকে সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।

অন্যদিকে পূর্ব ঘোষিত কর্মসৃচির অংশ হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সভাস্থলে আসেন। বিকেল ৪টার দিকে প্রধান অতিথি চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল ও সভাপতি আলহাজ নাছির উদ্দিন আহম্মেদ টেলিকনফারেন্সে নেতাকর্মীদের সামনে বক্তব্য দেন। তার বক্তৃকতা চলা অবস্থায় পুনরায় প্রতিপক্ষের লোকজন সভাস্থল লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুরো সভা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১২২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. মাঈনুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসৃচি হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। প্রশাসনের কাছে আমরা অনুমতি নিয়ে কর্মসৃচির আয়োজন করেছি। কিন্তু যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতা এমপির নাম ভাঙিয়ে সভাস্থলে হামলা চালিয়েছে। প্রশাসন তাদের সহযোগিতা করে আমাদের প্রতিহত করেছে।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন রনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে প্রতিপক্ষের লোকজন হঠাৎ হামলা চালিয়েছে। আমাদের নজরে আসার পর উভয়পক্ষের লোকজনকে স্বাভাবিক করতে গিয়ে প্রায় ১২২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ করা হয়েছে। আমরা জনসাধারণ ও বাজারের ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেয়নি।’

নজরুল ইসলাম আতিক/এসআর/এমএস