হবিগঞ্জে নারী লোভে প্রাণ গেছে এক ইজিবাইক চালকের। গলিত লাশ উদ্ধারের প্রায় দেড় বছর পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এর আগে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে লাশ উদ্ধারের ছয় মাস পর। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আসামিরা জানিয়েছেন, ইজিবাইক চালকের নারী লোভের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই করতে এমন লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন তারা।
সোমবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।
নিহত ইজিবাইক চালক মাধবপুর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের রহমত আলীর ছেলে মো. আলমগীর।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা জানান, ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গহীন বন থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার কোনো পরিচয় না পাওয়ায় আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। এ সময় নিহতের চুল ও দাঁত রেখে ডিএনএ পরীক্ষা করে রাখা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ জানতে পারে, মাধবপুর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের রহমত আলীর এক ছেলে নিখোঁজ হয়েছেন। এরপর তার ডিএনএ পরীক্ষা করলে দুটি মিলে যায়। পরে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে মাধবপুর উপজেলার উত্তর বেজুরা গ্রামের ছফন উদ্দিনের ছেলে মুসলিম মিয়া, খড়কী গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে রুকন মিয়া ও বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্নপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে সোহেল মিয়াকে আটক করে।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রুকন মিয়া ও সোহেল মিয়া। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হুদার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মুসলিম মিয়া। এতে তারা ঘটনার আদ্যোপান্ত বর্ণনা করেন।
গ্রেফতারদের দেয়া স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা জানান, নিহত আলমগীরের নারী লোভ ছিল। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা বলেন, সাতছড়িয়ে একজন নারী আছেন। তাদের কথামতো লোভে ইজিবাইক নিয়ে তারা সাতছড়িতে যান। সেখানে গহীন বনে গিয়ে ওই নারী কোথায় আছেন জানতে চান আলমগীর। এ সময় আসামিদের সঙ্গে থাকা একটি রশি দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করে লাশ বনে ফেলে যান। পরে ইজিবাইকটি নিয়ে তারা বানিয়াচংয়ে এক ব্যক্তির কাছে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। নগদ পান ১০ হাজার টাকা। এ থেকে চার হাজার টাকা রাখেন সোহেল মিয়া। মুসলিম ও রুকন মিয়াকে তিন হাজার করে দেন।
সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এসআর/এমএস