বিরামপুর পৌরসভা নির্বাচন আগামী ১৬ জানুয়ারি। দ্বিতীয় ধাপে এ নির্বাচনে মেয়র পদে চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও বিএনপিতে একজন রয়েছেন।
নৌকা প্রতীক নিয়ে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মো. আক্কাস আলী, ধানের শীষ প্রতীকে পৌর বিএনপির বর্তমান সভাপতি হুমায়ন কবির, মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে সাবেক পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবের মেয়র আজাদুল ইসলাম এবং নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে অ্যাডভোকেট মো. নুরুজ্জামান সরকার (সতন্ত্র) হিসেবে লড়ছেন।
এর আগে আওয়ামী লীগের দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র আলহাজ্ব লিয়াকত আলী সরকার টুটুল এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশফিকুর রহমান মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামায় পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী চার প্রার্থীর মধ্যে অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক মেয়র আজাদুল ইসলাম। নৌকার প্রার্থী আক্কাস আলী বর্তমানে হাকিমপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত থাকলেও হলফনামায় তা উল্লেখ করেননি।
তবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নামে কোনো মামলা না থাকলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আজাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে। তার মধ্যে একটি ফৌজদারি মামলা।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী
তৃতীয় বারের মত মেয়র পদে লড়ছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আক্কাস আলী। পেশা হিসেবে তিনি ফিলিং স্টেশন ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় পেশা হিসেবে চাকরির তথ্য না দিলেও বাৎসরিক আয় হিসেবে চাকরি থেকে তিন লাখ সাড়ে ৬২ হাজার টাকা বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন। এছাড়াও কৃষি খাত থেকে ৮৪ হাজার, ব্যবসা থেকে ৯৫ হাজার আয় রয়েছে তার।
বিএনপি প্রার্থী
প্রথমবারের মতো মেয়র পদে ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন মো. হুমায়ন কবির। কবির ফার্ম হাউজ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় চার লাখ ১১ হাজার টাকা। তবে তার ওপর নির্ভরশীলদের আয় দুই লাখ ৪৫ হাজার ৯৪০ টাকা।
বিএনপির বিদ্রোহী
তৃতীয়বারের মতো মেয়র পদে লড়ছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আজাদুল ইসলাম। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাত থেকে বার্ষিক আড়াই লাখ টাকা আয়ের কথা উল্লেখ থাকলেও কৃষি বা অ-কৃষি জমির পরিমাণ উল্লেখ নেই। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে। তিনি পৌর শহরের ইসলামপাড়া মহল্লার বাসিন্দা।
স্বতন্ত্র প্রার্থীঅ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান প্রথমবারের মতো মেয়র পদে অংশ নিয়েছেন। কৃষি ও আইন পেশা থেকে তার বার্ষিক আয় তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা। বাড়ি/দোকান ভাড়া থেকে আয় হয় আট লাখ টাকা। নগদ টাকা রয়েছে ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ৫৭০।তার দেনা রয়েছে রুপালি ব্যাংক বিরামপুর শাখায় ৪০ লাখ টাকা।
এমদাদুল হক মিলন/এএইচ