নওগাঁর মান্দায় আইনজীবী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গণেশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হানিফ উদ্দিন মণ্ডলসহ সাতজন আহত হয়েছেন।
চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিতের খবর ছড়িয়ে পড়লে গাছের গুড়ি ফেলে মান্দার ফেরিঘাটে নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়ক দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা। এছাড়া ফেরিঘাটের পাশেই ব্যক্তিগত চেম্বারে ওই আইনজীবী ও তার ছেলেকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মান্দার ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ হেফাজতে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- নওগাঁ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম বশির (৫৮) ও তার ছেলে আসাদুজ্জামান মিলন (৩৫)।
জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হানিফ উদ্দিন মণ্ডল উপজেলার দোসতিনা গ্রামে ক্ষতিগ্রন্ত একটি বাড়ি পরিদর্শন করে ফিরছিলেন। সকাল ১০টার দিকে পথিমধ্যে ফেরিঘাট ব্রিজের পূর্বপাশে চা স্টলে চা পানের সময় হঠাৎ করেই আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম ও তার ছেলেসহ কয়েকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করেন।
এদিকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ফেরিঘাটের পাশেই ব্যক্তিগত চেম্বারে আইনজীবী ও তার ছেলেকে অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে গাছের গুড়ি ফেলে নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়ক দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে তারা। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে মহাসড়কের উভয়পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেয়া হলে চলাচল স্বাভাবিক হয়। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় অবরুদ্ধ আইনজীবী ও তার ছেলেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
ইউপি চেয়ারম্যান হানিফ উদ্দিন মণ্ডল বলেন, ফেরিঘাট ব্রিজের পূর্বপাশে একটি স্টলে চা পান করছিলাম। এ সময় হঠাৎ করেই আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম, তার ছেলে মিলন ও মিঠুনসহ কয়েকজন অতর্কিত আমাদের ওপর হামলা করেন। তবে কী কারণে হামলা করেছে কিছুই জানি না।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, দুপুর সাড়ের ১২টার দিকে আইনজীবী ও তার ছেলেকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ঘটনায় চেয়ারম্যান যদি অভিযোগ করেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আব্বাস আলী/এমআরআর