জাতীয়

মাতারবাড়ি প্রকল্পে অভাব দক্ষ দেশীয় শ্রমিকের

মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কেন্দ্রীয় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র আসতে শুরু করেছে। চিমনি, বয়লার, বন্দরের জেটিসহ বিভিন্ন কাজ এখন দৃশ্যমান। এরই মধ্যে এ প্রকল্পে কাজের সুযোগ পেয়েছেন পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

বর্তমানে এ প্রকল্পে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ রাত-দিন কাজ করছেন। এর মধ্যে ১৮০০ বিদেশি শ্রমিক, বাকিরা দেশি। এদের মধ্যে দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া চুক্তিভিত্তিক এবং স্থায়ী নিয়োগের ভিত্তিতেও অনেক শ্রমিক কর্মরত। প্রকল্পটিতে দক্ষ দেশীয় শ্রমিকের অভাব রয়েছে।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছিলেন, দেশের মধ্যে বড় বড় প্রকল্প হলেও এটা চালানোর জন্য {দক্ষ কোনো শ্রমিক} আমরা পাচ্ছি না। দক্ষ শ্রমিকের অভাবে এসব প্রকল্পের বড় একটা অর্থ বিদেশ থেকে নিয়োগ দেয়া শ্রমিকের মাধ্যমে তাদের দেশে চলে যাচ্ছে। আমাদের কারিগরিতে আরও দক্ষ হতে হবে, দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কথা হয় প্রকল্পে নিয়োজিত দেশীয় এক কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখন এ প্রকল্পে পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, আগামীতে আরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে প্রকল্প ঘিরে। দক্ষ শ্রমিকের অভাব রয়েছে আমাদের দেশে। এখনো বড় বড় কাজ বাইরের শ্রমিকের ওপরই নির্ভরশীল। প্রকল্পের কাজ এখনো বাইরের দেশ থেকে আসা শ্রমিকরা নিয়ন্ত্রণ করছেন। আমাদের দেশের দক্ষ শ্রমিক থাকলে হয়তো সেগুলোর নিয়ন্ত্রণও আমাদের হাতে থাকতো।

অন্য এক কর্মকর্তা জানান, এখন বিদেশিদের পাশাপাশি দেশি দক্ষ কর্মকর্তারা বেশকিছু সাইটে কাজ করছেন। আগামীতে হয়তো এ প্রকল্প চালাতে আমাদের দেশিদের পাওয়া যাবে।

প্রকল্পের একটি সূত্র জানায়, এখানে প্রায় ১৮০০ বিদেশি শ্রমিক কর্মরত। যারা জাপান, কোরিয়া, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, ভারত ও আমেরিকা থেকে এসেছেন। এ প্রকল্পটি সম্পন্ন করছে সুমিতোমো করপোরেশন, তোশিবা করপোরেশন এবং আইএইচআই করপোরেশনের কনসোর্টিয়াম।

তাদের অধীনে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করছে পশকো, সাইটিংসহ বিদেশি ও দেশি মিলে প্রায় ২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে তোশিবা করপোরেশন করছে পাওয়ার জেনারেটর ও মেকানিক্যাল কাজ। আইএইচআই করছে বয়লার অংশের কাজ। অন্য একটি প্রতিষ্ঠান করছে সাব-স্টেশনের কাজ। এর বাইরে আবাসন টাউন, অবকাঠামো, রাস্তার উন্নয়নসহ আরও অনেক কাজ এখন দৃশ্যমান।

মাতারবাড়ি আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ার্ড পাওয়ার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্থানীয়দের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আমরা ট্রেনিং দিচ্ছি। এর মধ্যে একটা ট্রেনিং খুব কাজে লাগছে- তা হলো সেলাই প্রশিক্ষণ। বাকি যারা আসে, তারা তা খুব একটা কাজে লাগায় না। ট্রেনিংয়ে আসে, টাকা নিয়ে চলে যায়। আমরা ১২০ জনকে কম্পিউটার ট্রেনিং দিয়েছিলাম। ট্রেনিং দেয়ার এক মাস পরে ওদের আবার ডাকা হয় এবং কম্পিউটার খুলে এক পাতা লিখতে বলা হয়। কিন্তু তারা কম্পিউটার খুলতেই পারে না!

প্রকল্প সূত্র জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে মোট খরচ হচ্ছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তার মধ্যে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ঋণ হিসেবে দিচ্ছে ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি তিন লাখ টাকা। বাকি সাত হাজার ৪৫ কোটি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার ও সিপিজিসিবিএল। প্রকল্পটি ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিপিজিসিবিএল) আওতায় বাস্তবায়নাধীন এই বিদ্যুতের প্রকল্পে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট এবং জুলাইয়ে দ্বিতীয় ইউনিট চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ওয়ারেন্টি পিরিয়ড সমাপ্তির লক্ষ্য নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে।

ইএআর/এমএএস/পিডি/সায়ীদ আলমগীর/এসএইচএস/এইচএ/জেআইএম